স্প্রেডশিট

স্প্রেডশিট


সকাল থেকেই শুনছি ইলশেগুড়ির স্বর টিনের চালের উপরে ওঠা নামা করে আর এক স্মৃতিবিজড়িত অংকের ফর্মুলা। সংখ্যা একমাত্র সংখ্যা নয় জেনে বৃদ্ধি হয়ে চলেছে টিনের ঢেউ । একক দিকে এদিকে বার বার যোগ করে বেড়ে যাচ্ছে সংখ্যা। সংখ্যা উপরে যায় আর মুষলধারে তার আওয়াজ বেড়ে ওঠে, সংখ্যা নীচে চলে যায়, ইলসেগুড়িতে আওয়াজ কমে আসে।  সমস্বরে যদিও তার পিছিয়ে যাওয়া 
গুণ কেবল একই সংখ্যাকে বারবার যোগ করার সংক্ষিপ্ত রূপ
প্রতিটি গুণের সমীকরণ লুকিয়ে রাখে অসংখ্য যোগের ইতিহাস
আমার যখন গোঁফ উঠেছে কি ওঠেনি বা কিভাবে ঘন কালো হলো
তিন দুগুনে ছয় মানে দুইকে তিনবার নিজের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়া
চার পাঁচা কুড়িবার যখন সজ্নে গাছ থেকে পুকুরে ঝাঁপ দিলাম
মনে হয় চারের মাঝে পাঁচটি সমান্তরাল বিশ্ব স্থাপন করে
এক্সেলের স্প্রেডশিটে প্রতিটি ঘরে আমি একটি বছর রেখে
আমি ফটাফট বড়ো হয়ে গেলাম ।

এখন আমি ভাবি, আমার এই অর্ধপাকা গোফ যা খোচা খোচা সাদা
যতোই কলপ লাগিয়ে কৃষ্ণ কালো করার চেষ্টা করি
ছাপ্পান্নটি ইঞ্চি বুকের থেকে আটখানা সেল থেকে আড়াআড়ি
যেখানে প্রতিটি মুহূর্তই সাতকে আটবার ভাঙা ও গড়ার খেলা

ফাংশনের ভিতর ফাংশন টিপে ধরলে যে সংখ্যা জেগে ওঠে
তার নীচে আসলে লুকিয়ে আছে অসংখ্য প্রেমিকার নাজুক শরীর
এর ভিতর আমার বিবাহ সম্পন্ন হয়ে গেলো যখন আমি বুঝলাম

যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপই হিসাবের নতুন স্তর নির্মাণ করে
গণিতের এই সরল সত্য আমাদের শেখায়
জটিল সমস্যার মাঝেও আছে পুনরাবৃত্তির সৌন্দর্য
প্রতিটি গুণনই সংখ্যাদের মধ্যে তৈরি করে সম্পর্কের জাল
যেখানে যোগ হয়ে ওঠে ভাষা, গুণ হয়ে ওঠে কবিতা ।

এই যাত্রায় শেষ নেই, শেষ হবে না কোনোদিন এই স্প্রেডশীট
কারণ প্রতিটি নতুন সেল নিয়ে আসে নতুন সঙ্গীত
তুমি গান করো, গায়ে ঝরে পড়ে অজস্র ইলশেগুড়ি
গুণন তাই কোনো শেষ নয়, শুরু মাত্র,
যোগের অনন্ত সম্ভাবনার দরজা খুলে দেওয়ার অমোঘ মন্ত্র ।