হায় চিল !
হায় চিল !
পীযূষকান্তি বিশ্বাস
সোনালী ডানার চিল
হায় চিল, সোনালী ডানার চিল, আকাশ চিরে চিল উড়ে যায় । আকাশ পাতাল জুড়ে যত সৃষ্টির ঘনঘটা, কল্পনার জন্ম মৃত্যু ,জন্মান্তর তার সময়সীমা আর নিজস্ব মাধ্যম দিয়ে সাহিত্য ধাবিত । কবিতার জন্ম হচ্ছে, কবিতা বড় হচ্ছে, তারা লিখিত হচ্ছে কাব্যগ্রন্থে । কাব্যগ্রন্থ সময়ের সীমা ডিঙ্গিয়ে চলে যাচ্ছে অন্য সময় কালে । জীবন ও জন্মকথা নিয়ে কবিতার বিকাশ ক্রমাগত যে মাধ্যমের ভিতর দিয়ে যাচ্ছে, তা সত্য হয়ে রয়েছে এই বই খাতায়, কাগজ কলমে । লেখক লিখছেন , তাকে ঘিরে থাকছে পুস্তক, বিপনন, প্রকাশক । পাঠক তার আস্বাদন করছেন বইয়ের পাতায় । কলেজ স্ট্রিট বেড়ে উঠছে গমগম ভীড়ে, আমরা অপেক্ষা করছি প্রিয়তম কাব্যগ্রন্থে ঘ্রাণ নিতে । জেলায় জেলায় বিভিন্ন প্রান্তের বই মেলায় পৌঁছে যাচ্ছি কাগজে কাগজে । উড়ে যাচ্ছি এক শহর থেকে অন্য শহরে । দশকের পর দশক এই সাহিত্যে ভাসিয়ে দিয়েছি কাব্য কবিতায় । ঘনকালো মেঘচিরে এই হেমন্তের আকাশে সোনালী চিল উড়ে যায় ।
যেহেতু, সেটা সময় - তার উড়ে যাওয়া আছে । এই একবিংশ শতাব্দীতে বসে আমরা সেই যাদুকর স্যার গুটেনবার্গকে আর ধন্যবাদ দিয়ে কেন ছোট করি । মূলত, তার প্রিন্টিং প্রেস আমাদের সাহিত্য দুনিয়ার জোয়ার এনে দিয়ছিলো । সাহিত্যকে পৌঁছে দিয়েছিলো অপামর জনসাধারণের কাছে । যেখানে রাজকুমার থেকে কাপড়ের ব্যাবসায়ী, স্বর্ণকার থেকে মহাকরণের কেরানী, ঘোষ থেকে চ্যাটার্জী, তৃণমূল থেকে বিজেপী । আর যেহেতু সেটা সময় , এর উত্থান আছে । এবং লজিক্যালী এর পতনের কারণ আছে । প্রিন্ট মিডিয়ার ব্যাবসা এখনো রমরমে, এখনই যদি এর পতন দেখি না, কিন্তু ঘন্টা বাজার শব্দ পাওয়া যায় । সেটা পতনের ঘন্টা বলে এই ক্ষীন উচ্চারণ রাখি, সেই সংগে চোখ মেলে দেখি অপার বিস্ময় । মহাকালের সময় সীমা পার করে সাহিত্য অবিনশ্বর হয়ে উঠেছে । মগ্ন পাঠকের কাছে কাব্য কবিতা একইভাবে ভাস্বর, শুধু কাগজের মাধ্যম বদলে হয়ে উঠেছে অনলাইন ডিজিট্যাল সাহিত্য ।
একটা, পজ নেওয়া যাক ।
ভূমিকা বর্জিত এই লেখনীর আর কোন প্রস্তাবনা নেই। শুধু আছে এই আকাশ, মোবাইল ডিভাইসের ভেসে ওঠা ইন্টারনেট । হাতের মুঠোতে বন্দী করে রাখা হয়েছে সময় বীজ, গ্রন্থগারের বনসাই । বাংলা সাহিত্যের তার কোন ব্যতিক্রম নয় । ডিজিট্যাল লাইব্রেরী ও সাহিত্যগ্রুপ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ মিলে সাহিত্য রসিকেরা বিভিন্ন ফোরাম তৈরী করে ফেলেছেন । ভৌগলিক দূরতব কে অতিক্রম করে নিয়মিত সাহিত্য চর্চা করছেন ভিন্ন দেশের , ভিন্ন প্রান্তের লেখকবৃন্দ যা প্রাক-ইন্টারনেট যুগে ভাবা যেত না । একমাত্র মিডিয়াম ছিলো চিঠি পত্র যা ছিলও 'অফ লাইন' প্রক্রিয়া । সময় সাপেক্ষ । ইন্টারনেট যুগে সাহিত্য আলোচনায় নতুন ভাবে জোয়ার এনে দিয়েছে । টেক্সট বিনিময়, ভয়েস কল, ভিডিও কনফারেন্স ও সোসাল মিডিয়ার সেই কন্টেন্ট শেয়ার করা এক অভিনব সাহিত্য চর্চা পদ্ধতি ।
এই সাহিত্য পদ্ধতিতে নতুন সংযোজন হিসাবে গত দশকের শুরুতেই বেশ কয়েক বিদগ্ধ লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদক সাহিত্য চর্চাকে নতুন দিশা দিলেন । তার বের করে ফেললেন অনলাইন 'ওয়েব' ম্যাগাজিন । যা ইন্টারনেটে উপলব্ধ, একটা 'ইউ আর এল' প্রকাশ করা হয় । সেটা ল্যাপটপ, ডেসকটপ বা মোবাইল ডিভাইসে খোলা যায় । দারুন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই অনলাইন ম্যাগাজিন । ভৌগলিক ভাবে বিভিন্ন স্থানে থেকেও গড়ে উঠছে কমিউনিটি , টের পাওয়া যাচ্ছে সেই সাহিত্য আবেগ, কাব্য ধারনার উড়ান লক্ষ্য করা যায় । ঔ দেখা যায় তার নীল । ডেস্কটপে উকি দিচ্ছে আকাশ । আকাশ চিরে সোনালি চিল উড়ে যায় ।
ডিজিট্যাল মানে কি ?
কিভাবে করা হয় অনলাইন সাহিত্য
কারা এই সাহিত্য করেন ?
ফেসবুক বাংলা সাহিত্য
ভবিষ্যত বলে কিছু হয় ?
বইমেলার কি হবে ?
এথিক্যাল প্রশ্নে এখন বিভক্ত বাংলা সমাজ । এখন এই বিতর্ক স্বাভাবিক, প্রিন্ট মিডিয়া না অনলাইন মিডিয়া ? কি হবে এই বইমেলা । ভারতবর্ষের অন্যন্য প্রান্তে বইমেলা যেখানে ইতিহাস মাত্র, সেখানে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে এখনো জেলায় জেলায় বইমেলার মেজাজ । যে প্রকাশকদের জীবন, যৌবন কেটেছে কলেজ স্ট্রীটে । বই যাদের জীবন, কাগজের গন্ধ যাদের আত্মা তাদের কাছে বই বর্জিত মেলা একটা মাঠ মাত্র ।যে লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদক এতকাল গাটের পয়সা খরচা করে বইমেলার জন্য সারা বছর অপেক্ষা করেন, তাদের কাছে স্বপ্ন বলে আর কিছু থাকলো না ।