আলয়

আলয়-১


এতো কিছু জানার পরেও তুমি বলবে

আলয় শব্দটি কোন শিরোনাম হতে পারে না

শব্দকোষের অর্থে একটি কোষ !


অর্থাৎ , তুমি নিজেও  একজন বিষয়

আর তার বিশেষ অর্থ নিয়ে তোমার আপত্তি 

অথচ এই রিমঝিম হজ-খাস ঘিরে যখন বৃষ্টি নেমেছে

তুমি জানো সেখানে আমরা ভিজেছি

আমি রাঢ় বংগের , তুমি গাঙ্গেয়  ! 


কোন কি শব্দ হলো ?

আউটার রিং রোডে অশোক লি-ল্যান্ড 

লো রাইড বাসে উঠে ওড়না মাথায় 

কখন যে চলে গেছে কিশোরী চৌহান  ! 



আলয়-২


এই বাস-রুট কোথায় যায় বাহারি মুদ্রিকা ?

আমি দেখি তার রং সবুজ হয়ে উঠেছে

এই পথ কোথায় হয় শেষ ?

আমি দেখি বাসে বাসে ভরাট হয়ে ওঠে

রাইপিথোরা থেকে তুঘলকাবাদ

এই নেহেরু পার্ক কেমন ঘনসবুজ হয়ে আসে  


সেবার, কোথাও বোধহয় আঁধি উঠেছে

চারিদিক সাইসাই ঝটকা ঝড়, 

আমরা জানি না কোন দিকটা নৈঋত 

কোনটা ঈশান কোণ

তুমি বললে, 

বড্ড ভয় করছে ,  চলো ঘরে ফিরে যাই 


আমিও ভয় পেয়েছিলাম !

ভয় ঘরে ফেরার 

ঘরঃ যা কখনো সুদূরে ফেলে রেখে এসেছি 

ঘরে ফিরে যেতে পারার মতো 

কোন বাস রুট নেই ।



আলয়-৩


এই সোলাংকি তনয়াকে তুমি আগেও দেখেছো

দেখেছো তার ওড়না 

বেগুনি সালোয়ার ঈষৎ গেরুয়া কামিজ

এই ডিসেম্বরেও দ্যাখো খালি পায়ে হেঁটে যায় 

তুমি বললে, 'বালাঃ দেখে শুনে যাস'


বাড়িঘর বলে যাকে ভাবো, সে আসলে জঙ্গল

রাস্তাঘাট বলে যাকে ভাবো,  সেও আসলে জঙ্গল

মানচিত্র বলে যাকে ভাবো তাও 


জঙ্গল কেটেই গড়ে উঠেছে আমাদের বসতি

পায়ে পায়ে চকচকে পথ 

পায়ে পায়ে দৌড়ে যায় পালাম ডাবড়ি রোড

পায়ে পায়ে মানচিত্রে জায়গা স্পষ্ট করে নিয়েছে 

দিল্লি শহর ... 



আলয়-৪


তোরা যা ভাই, আমি যাবো না

আমি বরং এই নিমগাছ তলায় বসে থাকি

যেখানে বসে থাকতো বন্ধু দীপঙ্কর 

একা

একক 


তোরা অনেক দূরে যাবি জানি, যাঃ

সুদূর আমাকে টানে না

আমি বরং বসে থাকি এই বিজলী গ্রীলস 

আমার পড়া হয়ে ওঠেনি এখনো 

ব্রেইলবর্ণ বিষহরী

আমি এই সন্ধ্যার অবকাশে 

বরং নির্বাক তাকিয়ে দেখি দিল্লি হাট


বেলা চলে গেলো, 

তোরা যারা দূর দূর থেকে এসেছিস

যে যার হাটবাজার আছে, ঘর আলয় আছে

তোরা চলে যাঃ

আমি সন্ধ্যাপ্রদীপ নিয়ে চাতালে বসে থাকি

দীপঙ্কর দত্ত যদি 

দীপ হয়ে জ্বলে ওঠে ।


 

আলয়-৫


সেই ভাবে দেখা হলো না কবি, তোমার সঙ্গে

শুধু সুন্দরবাগিচায় মুখোমুখি কয়েকটা পল

সেই ভাবে কথা হলো না বন্ধু , তোমার সঙ্গে

আফ্রিকান এভিনিউ থেকে কখন যে এসে পড়লাম 

রিং রোড


এই একসঙ্গে হাঁটাটাই অবকাশ,

আমি ভাবি, 

এই ইন্দ্রপ্রস্থ নিজেই দারুণ এক সম্ভাবনাময় 

ভিতরে প্রবেশ করবো বলে যখন বাড়িয়েছি পা

আশপাশ ঘিরে আমি জানি অজানা হাতছানি


এই মোড় দিয়ে হয়তো সবাই যায়

বাকি সবাই হেঁটে গেছে 

তাদের সবুজ পার করে


ঠিক ভাবে ছুঁয়ে দেখা হলো না তোমার হাত

তুমি যদিও বললে কবিতা মানে একটা যাত্রা

আমরা তার সহযাত্রী

আমরা তার সহপাঠী

এইটুকুই আমাদের সঙ্গ ছিলো

এইটুকুই আমাদের সবুজ


বরং

বাগিচায় দ্যাখো না ফুল ফুটেছে

বেগুনী নারেং