বহিরাগত
You are a renowed poet, have published 30 poetry collections. You are Sahitya Acadamy award winer.
Please write 3 poems with no rhyme syntax based the surreal theme. Your subject is:
33 Foot Road is a small road in Mahavir Enclave, new delhi where three poets reside. They take a troll on the road every day and discuss the philosophical concept of the poetry. The road again and again reminds the real subjects of the poem, it represents abstract themes with human activities of different economic section. There are begali diaspora prevailing on the road where many small shop keepers like grocery, medicine, vegtables, mobile phone, tea stalls etc are there. The hamlet reminds nostalgic theme as it is situated far from main bengali land.
Example 1:
আরশি
দেখেছো পালাম পাপ্পানকালান ঐ রাইসিনা গাঁও
মস্তক থেকে কে কার ঘোমটা সরাবে
তেত্রিশ ফুটে হেঁটে যায় ফুটে ফুটে সোলাংকি তনয়া
এক ফুঁ হাওয়া দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া ওড়না
এর ভিতর সীসা
এর ভিতর এক আরশি
দিল বালা দিল বালা দিল্লির ভেঙে যাওয়া সড়কে
রং থেকে , রূপ থেকে ঝরে যাওয়া
অপূর্ব সে এক সময় পালক
Example 2:
বহিরাগত
নীল থেকে মেঘ থেকে মুছে ফেলেছো
আলতো আঁচড়ে নিয়েছো কপালের দখলদারি
যতকিছু হতে পারে ভোগ্য জায়গির ।
এক পশলা বৃষ্টি স্বত্বেও
কুসুম কুসুম ডিম এই ভোরবেলা
দুয়ারপ্রদেশে
Please write 3 poems with no rhyme syntax based the surreal theme. Your subject is:
33 Foot Road is a small road in Mahavir Enclave, new delhi where three poets reside. They take a troll on the road every day and discuss the philosophical concept of the poetry. The road again and again reminds the real subjects of the poem, it represents abstract themes with human activities of different economic section. There are begali diaspora prevailing on the road where many small shop keepers like grocery, medicine, vegtables, mobile phone, tea stalls etc are there. The hamlet reminds nostalgic theme as it is situated far from main bengali land.
Example 1:
আরশি
দেখেছো পালাম পাপ্পানকালান ঐ রাইসিনা গাঁও
মস্তক থেকে কে কার ঘোমটা সরাবে
তেত্রিশ ফুটে হেঁটে যায় ফুটে ফুটে সোলাংকি তনয়া
এক ফুঁ হাওয়া দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া ওড়না
এর ভিতর সীসা
এর ভিতর এক আরশি
দিল বালা দিল বালা দিল্লির ভেঙে যাওয়া সড়কে
রং থেকে , রূপ থেকে ঝরে যাওয়া
অপূর্ব সে এক সময় পালক
Example 2:
বহিরাগত
নীল থেকে মেঘ থেকে মুছে ফেলেছো
আলতো আঁচড়ে নিয়েছো কপালের দখলদারি
যতকিছু হতে পারে ভোগ্য জায়গির ।
এক পশলা বৃষ্টি স্বত্বেও
কুসুম কুসুম ডিম এই ভোরবেলা
দুয়ারপ্রদেশে
তবু লিখে রাখা হবে বহিরাগত ।
Example 3:
দিলবালে কা
এই নেই, এই আছি , এই আমাদের পাখি
দানায় দানায় লেখা আছে যেথা চঞ্চুচিহ্নমালা
চকচকে ক্ষুধার কাছে এই আঁখি,
এই সমর্পণ
তেত্রিশ ফুটায় দাপিয়ে বেড়ানো পদ্য সমূহে
লিখে ফেলা তিন পাতা রোমহর্ষক
অক্ষরের আর্তি আছে , এই আছি, এই পায়রা
দিল্লি দিল বালে কা,
কা কা খা খা আবর্ণ উড়িয়ে দেওয়া জাঠ যুবকের
বাইকের ধুলোয় অস্বচ্ছ চোদ্দ ডেসিবল
সজোরে পড়ার আছে কত যে পংক্তিমালা
এই আমাদের চড়ুই,
এই আমাদের ভাতি
দূর প্রদেশ থেকে অলক্ষ্যে উড়ে আসা কাক
ঠিকানায় কেয়ার অফ প্রাণজি বসাক ।
Example 4:
৩৩ ফুট
ফেটে গেলো ৩৩ ফুট
চৌচির চৌত্রিশে এখনো বাগিচায় হলুদ গেন্দা
ঘটনা ফুটে আছে জনজুথিকা জুড়ে
চিত চিত দৌড় মানে চিতাবাঘ না
এমনি মারীচ বলে ছুটে যাই জুলাই আগস্ট
ম্যাংগো শেক নিয়ে
দু কথা বলুন দত্ত প্রণব
হে বাচিক, পশ্চিম কখনো একা বঙ্গ হয় না
দিক ভ্রষ্ট হালদারের মাছের দোকান
এই মাঘে খবর হয়ে যাবে উত্তরকাল
দেহ সর্বসব বহু কবিতার সবুজ ফুটে গেছে
বরং আমাকে কুড়িয়ে নিও ক্ষুধাপ্রান্তে
পরিযায়ী তুমিও, পরিযায়ী আমিও
নাতি দীর্ঘ ৩৩ ফুটে আমাদের পদযুগলের
গভীর কৃষ্ণকলি ফুটে আছে ।
----------
ছোট কবি, বড় কবি
বিশ্বাস মোবাইল একখানা বেতের শরীর
কাঁচুলি খুলে দিলে উড়বে অক্ষরমালা
এ কেমন ব্যাকরণ, যেখানে গোলাপ নেই, জুঁই নেই
আছে শুধু হলুদের মেলা
Example 3:
দিলবালে কা
এই নেই, এই আছি , এই আমাদের পাখি
দানায় দানায় লেখা আছে যেথা চঞ্চুচিহ্নমালা
চকচকে ক্ষুধার কাছে এই আঁখি,
এই সমর্পণ
তেত্রিশ ফুটায় দাপিয়ে বেড়ানো পদ্য সমূহে
লিখে ফেলা তিন পাতা রোমহর্ষক
অক্ষরের আর্তি আছে , এই আছি, এই পায়রা
দিল্লি দিল বালে কা,
কা কা খা খা আবর্ণ উড়িয়ে দেওয়া জাঠ যুবকের
বাইকের ধুলোয় অস্বচ্ছ চোদ্দ ডেসিবল
সজোরে পড়ার আছে কত যে পংক্তিমালা
এই আমাদের চড়ুই,
এই আমাদের ভাতি
দূর প্রদেশ থেকে অলক্ষ্যে উড়ে আসা কাক
ঠিকানায় কেয়ার অফ প্রাণজি বসাক ।
Example 4:
৩৩ ফুট
ফেটে গেলো ৩৩ ফুট
চৌচির চৌত্রিশে এখনো বাগিচায় হলুদ গেন্দা
ঘটনা ফুটে আছে জনজুথিকা জুড়ে
চিত চিত দৌড় মানে চিতাবাঘ না
এমনি মারীচ বলে ছুটে যাই জুলাই আগস্ট
ম্যাংগো শেক নিয়ে
দু কথা বলুন দত্ত প্রণব
হে বাচিক, পশ্চিম কখনো একা বঙ্গ হয় না
দিক ভ্রষ্ট হালদারের মাছের দোকান
এই মাঘে খবর হয়ে যাবে উত্তরকাল
দেহ সর্বসব বহু কবিতার সবুজ ফুটে গেছে
বরং আমাকে কুড়িয়ে নিও ক্ষুধাপ্রান্তে
পরিযায়ী তুমিও, পরিযায়ী আমিও
নাতি দীর্ঘ ৩৩ ফুটে আমাদের পদযুগলের
গভীর কৃষ্ণকলি ফুটে আছে ।
----------
ছোট কবি, বড় কবি
বিশ্বাস মোবাইল একখানা বেতের শরীর
কাঁচুলি খুলে দিলে উড়বে অক্ষরমালা
এ কেমন ব্যাকরণ, যেখানে গোলাপ নেই, জুঁই নেই
আছে শুধু হলুদের মেলা
ভোলা বাবুর চায়ের ভাঙা ঠেলাগাড়ি,
ছোট কবি, বড় কবি, হেঁটে চলি পাশাপাশি
কিন্তু পথের শরীর জুড়ে অন্য সুর বাজে
গ্রামাফোনে পুরোনো দিনের গান,
ডাক্তারবাবুর হাসি, মুদিখানার ভিড়
এরাই তো পদ্যের শরীর, শব্দের গভীর আহ্বান
৩৩ ফুট মানে এক জীবন্ত কবিতা,
হলুদ গাঁদার গন্ধে মাখা,
বাঙালিয়ানার নীরব অভিমান।
প্রেমের ইশতেহার
অলক্ষে নেমে আসে সন্ধ্যা, যেন এক ক্লান্ত ঘুড়ি
পাশের চায়ের দোকানে তখন আলু চপের গরম তেলে ভাজা,
আর্য সমাজ রোডের ঝাঁঝালো বক্তৃতা ।
জাঠ ছেলেরা হাসে, উড়োজাহাজের মতো উড়িয়ে দেয় বাইক
আমরা খুঁজি শব্দের মুক্তি, ব্যঞ্জনের অন্তমিল
গলিতে জমে থাকে জীবনের অঙ্ক
কোথাও বাচ্চার কান্না,
কোথাও মোবাইলের দোকানে নতুন সুর।
আমাদের পদ্যের খাতায় ধুলোমাখা শরীর
বহু দূর থেকে আসা পরিযায়ী পাখির মতো এই পথ
কেউ খোঁজে আশ্রয়, কেউ খোঁজে পরিচিত গন্ধ
আমরা শুধু পরিত্যক্ত বাঙালী,
যারা বুনে চলি জীবনের কোলাজ,
দুপাতা পদ্যসহ প্রেমের ইশতেহার ।
মুক্তি
এ শুধু ভৌগোলিক নয় , এ এক মানচিত্র
হারিয়ে যাওয়া স্মৃতির আর না বলা কথার ।
এখানে প্রতিটি ইঁটের গায়ে লেগে আছে বাঙালিয়ানার ঘ্রাণ
প্রবীন কবি লেখে প্রেমের কবিতা, বিরহের সুর
আমি খুঁজি জীবনের মানে, মৃত্যুর ঠিকানা
ক্ষুধার্ত চোখে বেঁচে থাকার তীব্র আকাঙ্ক্ষা।
তেত্রিশ ফুট, যেন এক জটিল ক্যালকুলাস
চা-দোকানের ধোঁয়ায় জীবনের অংক ।
এই গলির ভূগোলে জাঠভূমির উষ্ণ আলিঙ্গন
এখানে কাশফুল ফোটে হেমন্তের দুপুরে,
আর শিউলি ঝরে হেমন্ত সন্ধ্যায়
কবি বলে ওঠে, কবিতা মানে মুক্তি, প্রেমের আহ্বান
আমি বলি, মধ্য রাতের নিসঙ্গ তেত্রিশ ফুট্টা রোড ।
সংলাপ
হালদারের দোকানে তরকারির পচে ওঠা গন্ধ
আর মোবাইলের দোকানে কিশোরীদের ভীড় –
এরাই তো ভাষার বীজ, শব্দের বাসভূমি
জাঠ যুবকের বাইকের আওয়াজ,
যেন এক না-শেষ হওয়া সংলাপ
মুদির দোকানের সামনে টাঙানো রঙিন বিজ্ঞাপন
কবি খোঁজে শব্দের কারুকাজ, অলঙ্কারের ছটা,
আমি খুঁজি মাটির গন্ধ মেলাই গণিত জীবনের
তেত্রিশ ফুটা, যেন এক উপপাদ্য ।
টিফিন কেরিয়ারের গন্ধ, ক্ষুধার্ত আত্মার শান্তি।
কবি লেখে রূপকের কবিতা, উপমার খেলা,
বৃথাই খুঁজেছি তাকে আবৃত্তির আসরে
দত্ত প্রণবের বাচিক অভিনয় এক জাদুটোনা,
আর হালদারের মাছের দোকানের হাঁকডাক –
জাঠ শিশুর দৌড়ে শুনতে এক নতুনের ভাষা
আর লাল চা খেয়ে উঠে যাওয়া বৃদ্ধের
লাঠির ঠকঠক ।
------
খাদ্য খাদক
এই শহরে কে আর কবিতা শুনতে চায়
রাস্ক বিস্কুটের সঙ্গে কবি চা পানে খুশী
মধ্যরাতে সজোরে নাড়িয়ে দিতে চায়
জেগে থাকা ছাতিমের ডাল
এই রাস্তা কাঁপে না, শুধু ভেঙে যায়—
ফুটে ওঠে লাল বিজ্ঞাপনের ভূত,
পেট বরাবার বুঝি কারো গতিময় বেগ
ছুটে যাওয়া মারুতীর ধূলোয় ভরে ওঠে
৩৩ ফুটে সাজিয়ে রাখা খাদ্য খাদক ।
বাঙালির দোকানে আলুর দাম বাড়ে,
আর এক কবি বলেন, দরকার কি?
ক্ষুধা তো শব্দহীন, শুধু অক্ষরের ভিড়—
এক কাপ চায়ে ডুবে আছে পুরনো সবুজ জমিন।
রাস্তার শেষে এক বৃদ্ধা ডাল মেপে নেন,
তার আঙুলে লেগে থাকে কবিতার লবণ—
এই পথে হাঁটে তিনজন, কিন্তু পায়চারি করে
অসংখ্য ছায়া— কেউ জাঠ, কেউ বা পূর্ববঙ্গ।
চা
চায়ের দোকানের কাপে ভাসে এক চিলতে পূর্ববঙ্গ—
এক কবি বলেন, এই ফেনাই আমার মাতৃভূমি।"
দুগ্ধ-সাদা, ক্ষণস্থায়ী,
যেখানে ডুবে আছে
অনেকগুলো বিস্মৃত ডাকনাম।
পাশের টেবিলে এক যুবক মুঠোফোনে
খুঁজে ফেরে কলকাতার আবহাওয়া—
এখানে কি বৃষ্টি নামবে?
দোকানদার হেসে বলেন, বৃষ্টি নয়,
এই তো, চিনি-কম চায়ে ঝড় ওঠে।
চা ঠান্ডা হয়ে যায়,
কবিতা গরম থেকে গরমতর।
এক জাঠ যুবক বাইকে চড়ে
রাস্তার নাম কেটে দেয়—
এটা ৩৩ ফুট নয়,
এটা আমার দৌড়ের দাগ।
9. প্লাস্টিকের পদ্ম
এখানে ফুটপাথ ফুঁড়ে জন্মায় প্লাস্টিকের পদ্ম—
এক কবি বলেন, এইটাই আমাদের গঙ্গা।
রাস্তার ধারে এক বালক
মোবাইলে সার্চ করে মন্দারমনির সৈকত,
স্ক্রিনে আসে শুধু ধূলোর ম্যাপ।
দোকানের শেডে ঝোলে শুকনো মাছ,
তার গায়ে লেখা "মা-এর হাতের স্বাদ"—
কিন্তু লবণ তো এখানে মিথ্যে বলে,
কারণ এই নোনতা জিভে
কবিতার স্মৃতি জেগে থাকে।
রাত নামলে প্লাস্টিকের পদ্ম জ্বলে,
আলো হয় না, শুধুই জ্বালা।
রিকশাওয়ালা
রিকশাওয়ালা গান গায় আমি কোথায় পৌঁছাব?
তার চাকায় আটকে আছে তিনটি কবিতা:
একটি জাঠ যুবকের,
একটি বাঙালি কবির,
একটি অদৃশ্য শিশুর যে রাস্তায় খেলতে আসে না।
কবিরা তর্ক করেন: "এই গান কি
রাস্তার দৈর্ঘ্য নাকি সময়ের ফাঁক?"
রিকশাওয়ালা হেসে বলে, "এই তো,
আমার ফেরার পথেই সব উত্তর।"
কিন্তু রিকশা চলে যায় না,
শুধু ঘুরতে থাকে
একটি অসমাপ্ত চৌমাথায়।
টিনের ছাদ
মাছের দোকানের টিনের ছাদে
এক কবি খুঁজে ফেরেন দীঘার মোহনা —
এইটুকুই কি আমার নদী?
এই টিনের তলায় কি জোয়ার আসে?
পাশের দোকানে এক কিশোরী
লিপস্টিক টেস্ট করে,
তার ঠোঁটে জমে থাকে
অনেক দূরের একটি নদীর নাম।
রাস্তায় হঠাৎ বৃষ্টি নামে,
টিনের ছাদে শব্দ হয়
ঠিক যেন পদ্মার ঢেউ—
কিন্তু কবি জানেন,
এটা শুধু দিল্লির ধূলি
আর শুধু একটু ভিজে যাচ্ছে ।
প্রথম প্রহরের অস্থিপঞ্জর
তেত্রিশ ফুট রাস্তাটি একখণ্ড কালো নদীর মতো বেঁকে আছে
যেখানে আলুর থলের ফাটল দিয়ে
ভেসে আসে মৃত ইলিশের গন্ধ
আর রিকশাওয়ালার পায়ের তলায় পিষ্ট হয় প্রতিদিনের সংবাদপত্র
যার পাতায় পাতায় জমে থাকে চা-ভেজা ইছামতির চর,
আর এক কবি হাঁটতে হাঁটতে
গুনে যায় ফুটপাথের ফাটলে জমে থাকা চাঁদের হাড়গিল্লা
যেগুলো কোনো এক ভোরে নর্দমায় গিয়ে মিশেছে
সেই সব শিশুর দুধদাঁতের সঙ্গে
যারা কখনো বাংলার বৃষ্টি দেখেনি।
দ্বিতীয় প্রহরের ছায়ালিপি
দোকানের শেডের নিচে ঝুলছে
শুকনো মাছের গায়ে লেখা হারানো ডাকনাম
আর পাশেই এক কিশোরী লিপস্টিক মাখে
তার ঠোঁটে যেন লাল হয়ে ফোটে দূর কোনো জেলার নাম,
রোদের তাপে গলতে থাকে প্লাস্টিকের থলে
আর তার ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে অচিন পাখির পালক
যেগুলো উড়ে গিয়ে আটকে থাকে বিদ্যুতের তারে
সেখানে বসে থাকে একাকী কাক
যার চোখে প্রতিফলিত হয় ভাঙা চেয়ার গান,
আর রাস্তার শেষ মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা
পোস্টারে বাঘের চোখ দুটো ট্রাফিক লাইট।
অর্ধরাত্রির নথিপত্র
রাত যত গভীর হয়
ততই রাস্তার ইটগুলো নরম হয়ে ওঠে
আর সেগুলোর ফাঁক দিয়ে গজায় জলহাই তুলছে
এমন ঘাস যার ডগায় জমে আছে বহিরগাছির শিশির,
দূর থেকে আসে বাইকের শব্দ
যেন কোনো অদৃশ্য নদীর স্রোত
আর কবির খাতার পাতায় আপনা থেকেই লিখে যায় শব্দগুলো
'পলাশ', 'স্টপ সাইন', 'নোনা হাওয়া' - সাজানো থাকে
সেগুলো টাইপ রাইটারের টুং টাং শব্দে,
আর ভোর হওয়ার আগেই সবকিছু মিলিয়ে যায়
সেইসব পথিকের পদচিহ্নে যারা কখনো ফেরেনি
তাদের জুতোর তলায় আটকে থাকা মাটির গন্ধ নিয়ে।
ছোট কবি, বড় কবি, হেঁটে চলি পাশাপাশি
কিন্তু পথের শরীর জুড়ে অন্য সুর বাজে
গ্রামাফোনে পুরোনো দিনের গান,
ডাক্তারবাবুর হাসি, মুদিখানার ভিড়
এরাই তো পদ্যের শরীর, শব্দের গভীর আহ্বান
৩৩ ফুট মানে এক জীবন্ত কবিতা,
হলুদ গাঁদার গন্ধে মাখা,
বাঙালিয়ানার নীরব অভিমান।
প্রেমের ইশতেহার
অলক্ষে নেমে আসে সন্ধ্যা, যেন এক ক্লান্ত ঘুড়ি
পাশের চায়ের দোকানে তখন আলু চপের গরম তেলে ভাজা,
আর্য সমাজ রোডের ঝাঁঝালো বক্তৃতা ।
জাঠ ছেলেরা হাসে, উড়োজাহাজের মতো উড়িয়ে দেয় বাইক
আমরা খুঁজি শব্দের মুক্তি, ব্যঞ্জনের অন্তমিল
গলিতে জমে থাকে জীবনের অঙ্ক
কোথাও বাচ্চার কান্না,
কোথাও মোবাইলের দোকানে নতুন সুর।
আমাদের পদ্যের খাতায় ধুলোমাখা শরীর
বহু দূর থেকে আসা পরিযায়ী পাখির মতো এই পথ
কেউ খোঁজে আশ্রয়, কেউ খোঁজে পরিচিত গন্ধ
আমরা শুধু পরিত্যক্ত বাঙালী,
যারা বুনে চলি জীবনের কোলাজ,
দুপাতা পদ্যসহ প্রেমের ইশতেহার ।
মুক্তি
এ শুধু ভৌগোলিক নয় , এ এক মানচিত্র
হারিয়ে যাওয়া স্মৃতির আর না বলা কথার ।
এখানে প্রতিটি ইঁটের গায়ে লেগে আছে বাঙালিয়ানার ঘ্রাণ
প্রবীন কবি লেখে প্রেমের কবিতা, বিরহের সুর
আমি খুঁজি জীবনের মানে, মৃত্যুর ঠিকানা
ক্ষুধার্ত চোখে বেঁচে থাকার তীব্র আকাঙ্ক্ষা।
তেত্রিশ ফুট, যেন এক জটিল ক্যালকুলাস
চা-দোকানের ধোঁয়ায় জীবনের অংক ।
এই গলির ভূগোলে জাঠভূমির উষ্ণ আলিঙ্গন
এখানে কাশফুল ফোটে হেমন্তের দুপুরে,
আর শিউলি ঝরে হেমন্ত সন্ধ্যায়
কবি বলে ওঠে, কবিতা মানে মুক্তি, প্রেমের আহ্বান
আমি বলি, মধ্য রাতের নিসঙ্গ তেত্রিশ ফুট্টা রোড ।
সংলাপ
হালদারের দোকানে তরকারির পচে ওঠা গন্ধ
আর মোবাইলের দোকানে কিশোরীদের ভীড় –
এরাই তো ভাষার বীজ, শব্দের বাসভূমি
জাঠ যুবকের বাইকের আওয়াজ,
যেন এক না-শেষ হওয়া সংলাপ
মুদির দোকানের সামনে টাঙানো রঙিন বিজ্ঞাপন
কবি খোঁজে শব্দের কারুকাজ, অলঙ্কারের ছটা,
আমি খুঁজি মাটির গন্ধ মেলাই গণিত জীবনের
তেত্রিশ ফুটা, যেন এক উপপাদ্য ।
টিফিন কেরিয়ারের গন্ধ, ক্ষুধার্ত আত্মার শান্তি।
কবি লেখে রূপকের কবিতা, উপমার খেলা,
বৃথাই খুঁজেছি তাকে আবৃত্তির আসরে
দত্ত প্রণবের বাচিক অভিনয় এক জাদুটোনা,
আর হালদারের মাছের দোকানের হাঁকডাক –
জাঠ শিশুর দৌড়ে শুনতে এক নতুনের ভাষা
আর লাল চা খেয়ে উঠে যাওয়া বৃদ্ধের
লাঠির ঠকঠক ।
------
খাদ্য খাদক
এই শহরে কে আর কবিতা শুনতে চায়
রাস্ক বিস্কুটের সঙ্গে কবি চা পানে খুশী
মধ্যরাতে সজোরে নাড়িয়ে দিতে চায়
জেগে থাকা ছাতিমের ডাল
এই রাস্তা কাঁপে না, শুধু ভেঙে যায়—
ফুটে ওঠে লাল বিজ্ঞাপনের ভূত,
পেট বরাবার বুঝি কারো গতিময় বেগ
ছুটে যাওয়া মারুতীর ধূলোয় ভরে ওঠে
৩৩ ফুটে সাজিয়ে রাখা খাদ্য খাদক ।
বাঙালির দোকানে আলুর দাম বাড়ে,
আর এক কবি বলেন, দরকার কি?
ক্ষুধা তো শব্দহীন, শুধু অক্ষরের ভিড়—
এক কাপ চায়ে ডুবে আছে পুরনো সবুজ জমিন।
রাস্তার শেষে এক বৃদ্ধা ডাল মেপে নেন,
তার আঙুলে লেগে থাকে কবিতার লবণ—
এই পথে হাঁটে তিনজন, কিন্তু পায়চারি করে
অসংখ্য ছায়া— কেউ জাঠ, কেউ বা পূর্ববঙ্গ।
ক্ষুধার পালক
ভোরবেলা এক কাক ঠোঁটে নিয়ে যায়
এক টুকরো রুটি—
সেই রুটির গায়ে লেখা ৩৩ ফুট্টা
আর এক কবি বলেন, এটা কোনো কবিতা নয়,
এটা শুধু ক্ষুধার পালক।
দোকানের শেডে ঝুলছে পলিথিনের থলে,
তার ভেতর থেকে ফিসফিস করে মাছ—
গঙ্গা এখানে নেই, তবু জাল টানো,
এই মাটির নিচে লুকিয়ে আছে নদীর ছায়া।
একজন কবি চায়ের দোকানে বসে
লিখে ফেলেন আকাশের ঠিকানা—
পশ্চিমে বঙ্গ নেই, আছে শুধু হেঁটে যাওয়া
আর একটি রাস্তা, যে কখনো শেষ হয় না।
ভোরবেলা এক কাক ঠোঁটে নিয়ে যায়
এক টুকরো রুটি—
সেই রুটির গায়ে লেখা ৩৩ ফুট্টা
আর এক কবি বলেন, এটা কোনো কবিতা নয়,
এটা শুধু ক্ষুধার পালক।
দোকানের শেডে ঝুলছে পলিথিনের থলে,
তার ভেতর থেকে ফিসফিস করে মাছ—
গঙ্গা এখানে নেই, তবু জাল টানো,
এই মাটির নিচে লুকিয়ে আছে নদীর ছায়া।
একজন কবি চায়ের দোকানে বসে
লিখে ফেলেন আকাশের ঠিকানা—
পশ্চিমে বঙ্গ নেই, আছে শুধু হেঁটে যাওয়া
আর একটি রাস্তা, যে কখনো শেষ হয় না।
ঠিকানা
ফুটপাথে এক কুকুর শুয়ে আছে,
তার পাশে লাল গেরুয়া রং—
এক কবি বলেন, এটা রক্ত নয়,
এটা শুধু এক ফোঁটা অতীত।
মোবাইল দোকানের সামনে
এক যুবক স্ক্রোল করে যায়—
এই পিক্সেলগুলো কি কবিতা?
নাকি শুধু ভুল দেশের ছায়া?
রাস্তা শেষ হয় না, শুধু ভেঙে যায়
চৌত্রিশ টুকরো কবিতায়—
এখানে বাঙালি, জাঠ, কবি, কাক—
সবাই একসাথে হাঁটে,
কিন্তু কেউ কারো ঠিকানা জানে না।
মাছ
একটি মাছ রোডের ড্রেনে বেঁচে আছে—
সে বলে, গঙ্গা এখান থেকেই শুরু হয়
এইখানে একটি শাখা নদী আছে
কবিরা শুনে হাসে,
আর এক ফেরিওয়ালা কাঁধে নিয়ে যায়
প্লাস্টিকের সাগর।
দুপুরে রোদ যখন রাস্তাকে ভাজ করে,
এক বৃদ্ধা বলেন, এই তপ্ত অ্যাসফল্টে
লেখা আছে আমার শৈশবের ঠিকানা
নদী ছিল, এখন শুধু পাইপের গুঞ্জন।
মাছটি ডিগবাজি দেয়,
আর কবির খাতায় জমা হয়
অদৃশ্য নদীর সাক্ষর সহ।
ফুটপাথে এক কুকুর শুয়ে আছে,
তার পাশে লাল গেরুয়া রং—
এক কবি বলেন, এটা রক্ত নয়,
এটা শুধু এক ফোঁটা অতীত।
মোবাইল দোকানের সামনে
এক যুবক স্ক্রোল করে যায়—
এই পিক্সেলগুলো কি কবিতা?
নাকি শুধু ভুল দেশের ছায়া?
রাস্তা শেষ হয় না, শুধু ভেঙে যায়
চৌত্রিশ টুকরো কবিতায়—
এখানে বাঙালি, জাঠ, কবি, কাক—
সবাই একসাথে হাঁটে,
কিন্তু কেউ কারো ঠিকানা জানে না।
মাছ
একটি মাছ রোডের ড্রেনে বেঁচে আছে—
সে বলে, গঙ্গা এখান থেকেই শুরু হয়
এইখানে একটি শাখা নদী আছে
কবিরা শুনে হাসে,
আর এক ফেরিওয়ালা কাঁধে নিয়ে যায়
প্লাস্টিকের সাগর।
দুপুরে রোদ যখন রাস্তাকে ভাজ করে,
এক বৃদ্ধা বলেন, এই তপ্ত অ্যাসফল্টে
লেখা আছে আমার শৈশবের ঠিকানা
নদী ছিল, এখন শুধু পাইপের গুঞ্জন।
মাছটি ডিগবাজি দেয়,
আর কবির খাতায় জমা হয়
অদৃশ্য নদীর সাক্ষর সহ।
চা
চায়ের দোকানের কাপে ভাসে এক চিলতে পূর্ববঙ্গ—
এক কবি বলেন, এই ফেনাই আমার মাতৃভূমি।"
দুগ্ধ-সাদা, ক্ষণস্থায়ী,
যেখানে ডুবে আছে
অনেকগুলো বিস্মৃত ডাকনাম।
পাশের টেবিলে এক যুবক মুঠোফোনে
খুঁজে ফেরে কলকাতার আবহাওয়া—
এখানে কি বৃষ্টি নামবে?
দোকানদার হেসে বলেন, বৃষ্টি নয়,
এই তো, চিনি-কম চায়ে ঝড় ওঠে।
চা ঠান্ডা হয়ে যায়,
কবিতা গরম থেকে গরমতর।
জাঠ
এক জাঠ যুবক বাইকে চড়ে
রাস্তার নাম কেটে দেয়—
এটা ৩৩ ফুট নয়,
এটা আমার দৌড়ের দাগ।
রাস্তার ধারে এক কিশোর
মোবাইলে টিকটক বানায়—
এই ভাইরাল হওয়া মানে কি
কবিতা লেখা?
বাঙালি মুদিখানায় আলু কিনতে এসে
এক কবি বলেন, এই সবজির ভেতর
লুকিয়ে আছে মাটির স্মৃতি—
একদিন এগুলোও কবিতা হবে
আর সাজিয়ে রাখা চাইনিজ ফুড
মোবাইলে টিকটক বানায়—
এই ভাইরাল হওয়া মানে কি
কবিতা লেখা?
বাঙালি মুদিখানায় আলু কিনতে এসে
এক কবি বলেন, এই সবজির ভেতর
লুকিয়ে আছে মাটির স্মৃতি—
একদিন এগুলোও কবিতা হবে
আর সাজিয়ে রাখা চাইনিজ ফুড
আমার জমিয়ে রাখা গদ্য ।
রাত নামলে রাস্তা আলো হয় না,
শুধু জাদুকরের মতো জ্বলে ওঠে
মোবাইল স্ক্রিনের নীলাভ ক্ষুধা ।
রাত নামলে রাস্তা আলো হয় না,
শুধু জাদুকরের মতো জ্বলে ওঠে
মোবাইল স্ক্রিনের নীলাভ ক্ষুধা ।
9. প্লাস্টিকের পদ্ম
এখানে ফুটপাথ ফুঁড়ে জন্মায় প্লাস্টিকের পদ্ম—
এক কবি বলেন, এইটাই আমাদের গঙ্গা।
রাস্তার ধারে এক বালক
মোবাইলে সার্চ করে মন্দারমনির সৈকত,
স্ক্রিনে আসে শুধু ধূলোর ম্যাপ।
দোকানের শেডে ঝোলে শুকনো মাছ,
তার গায়ে লেখা "মা-এর হাতের স্বাদ"—
কিন্তু লবণ তো এখানে মিথ্যে বলে,
কারণ এই নোনতা জিভে
কবিতার স্মৃতি জেগে থাকে।
রাত নামলে প্লাস্টিকের পদ্ম জ্বলে,
আলো হয় না, শুধুই জ্বালা।
রিকশাওয়ালা
রিকশাওয়ালা গান গায় আমি কোথায় পৌঁছাব?
তার চাকায় আটকে আছে তিনটি কবিতা:
একটি জাঠ যুবকের,
একটি বাঙালি কবির,
একটি অদৃশ্য শিশুর যে রাস্তায় খেলতে আসে না।
কবিরা তর্ক করেন: "এই গান কি
রাস্তার দৈর্ঘ্য নাকি সময়ের ফাঁক?"
রিকশাওয়ালা হেসে বলে, "এই তো,
আমার ফেরার পথেই সব উত্তর।"
কিন্তু রিকশা চলে যায় না,
শুধু ঘুরতে থাকে
একটি অসমাপ্ত চৌমাথায়।
টিনের ছাদ
মাছের দোকানের টিনের ছাদে
এক কবি খুঁজে ফেরেন দীঘার মোহনা —
এইটুকুই কি আমার নদী?
এই টিনের তলায় কি জোয়ার আসে?
পাশের দোকানে এক কিশোরী
লিপস্টিক টেস্ট করে,
তার ঠোঁটে জমে থাকে
অনেক দূরের একটি নদীর নাম।
রাস্তায় হঠাৎ বৃষ্টি নামে,
টিনের ছাদে শব্দ হয়
ঠিক যেন পদ্মার ঢেউ—
কিন্তু কবি জানেন,
এটা শুধু দিল্লির ধূলি
আর শুধু একটু ভিজে যাচ্ছে ।
প্রথম প্রহরের অস্থিপঞ্জর
তেত্রিশ ফুট রাস্তাটি একখণ্ড কালো নদীর মতো বেঁকে আছে
যেখানে আলুর থলের ফাটল দিয়ে
ভেসে আসে মৃত ইলিশের গন্ধ
আর রিকশাওয়ালার পায়ের তলায় পিষ্ট হয় প্রতিদিনের সংবাদপত্র
যার পাতায় পাতায় জমে থাকে চা-ভেজা ইছামতির চর,
আর এক কবি হাঁটতে হাঁটতে
গুনে যায় ফুটপাথের ফাটলে জমে থাকা চাঁদের হাড়গিল্লা
যেগুলো কোনো এক ভোরে নর্দমায় গিয়ে মিশেছে
সেই সব শিশুর দুধদাঁতের সঙ্গে
যারা কখনো বাংলার বৃষ্টি দেখেনি।
দ্বিতীয় প্রহরের ছায়ালিপি
দোকানের শেডের নিচে ঝুলছে
শুকনো মাছের গায়ে লেখা হারানো ডাকনাম
আর পাশেই এক কিশোরী লিপস্টিক মাখে
তার ঠোঁটে যেন লাল হয়ে ফোটে দূর কোনো জেলার নাম,
রোদের তাপে গলতে থাকে প্লাস্টিকের থলে
আর তার ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে অচিন পাখির পালক
যেগুলো উড়ে গিয়ে আটকে থাকে বিদ্যুতের তারে
সেখানে বসে থাকে একাকী কাক
যার চোখে প্রতিফলিত হয় ভাঙা চেয়ার গান,
আর রাস্তার শেষ মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা
পোস্টারে বাঘের চোখ দুটো ট্রাফিক লাইট।
অর্ধরাত্রির নথিপত্র
রাত যত গভীর হয়
ততই রাস্তার ইটগুলো নরম হয়ে ওঠে
আর সেগুলোর ফাঁক দিয়ে গজায় জলহাই তুলছে
এমন ঘাস যার ডগায় জমে আছে বহিরগাছির শিশির,
দূর থেকে আসে বাইকের শব্দ
যেন কোনো অদৃশ্য নদীর স্রোত
আর কবির খাতার পাতায় আপনা থেকেই লিখে যায় শব্দগুলো
'পলাশ', 'স্টপ সাইন', 'নোনা হাওয়া' - সাজানো থাকে
সেগুলো টাইপ রাইটারের টুং টাং শব্দে,
আর ভোর হওয়ার আগেই সবকিছু মিলিয়ে যায়
সেইসব পথিকের পদচিহ্নে যারা কখনো ফেরেনি
তাদের জুতোর তলায় আটকে থাকা মাটির গন্ধ নিয়ে।