এ - ঐ

পীযূষকান্তি বিশ্বাস এর কবিতা


এ 

ও’র দিকে তাকায় এ 
জানলা খুলে দিয়ে দেখা বিস্ময় 
সেখানে মেঘবাদলে লেখা অনন্ত আকাশ
ক্ষণিকের আঁচড়ে পিছলে অবাক মুহূর্তক্ষত 
ঘনঘটায় সরে আসা আমি দেখি তার সন্ধ্যাবেলা 

আমি দেখি ওর আনাচ
অজত্নে বেড়ে ওঠা ঝাঁটিবাবলার বন
এ'র  ব্যালকনি দেখি
গৃহিনীর কোমল হাতে উঠে আসা বনসাই

ওপারের বাংলা দেখে
এ ভাবেন - আমিও তো এক পার
আমিও তো বাঙালি
আমার অন্তরে এক বৈরাগী 
আমার বাগানে অযত্নে বেডে ওঠা এক লাউ

জানলার ওপারে জানালা 
জানালার ওপারে ব্যালকনি
রোদ্দুরে চুল শুকায় আর মামনি

এ’ ভাবেন, এই গ্রামের নামটি পালাম
এই পাখিটার নাম চন্দনা
অট্টালিকায় ছেয়ে গেছে মহল্লা 
ব্যালকনি থেকে একটুকরো আকাশ দেখা যায়

সেই পাখিটিকে যেন আর কোথাও দেখিনা ।





বেলাভিউ নর্থ ফেসিং , হ্যাগো এটা কোন পাড়া 
বলতে পারেন, এইচ ব্লক 
বাড়ির নাম্বার দেখে কিছুই চেনা যায় না । 

যে দিকে দেখি, সব একই রকম লাগে 
সেই গলি, সেই মহল্লা,  বাপাশে কিরানার দোকান, 
কয়লার  আঁচে এখনো  এ মহল্লার জামাকাপড় প্রেস করেন 
একজন বৃদ্ধ, নাম হতে পারে মহাম্মদ রশীদ 
কিংবা দীর্ঘ মেদিনীপুর থেকে রুজীর খোঁজে আসা মন্টু প্রামানিক
খানিকটা পাথুরে জমি
শুধু সেই পড়ে থাকাটা বোঝা যায়  ।

এত অচেনা লাগে এ শহরে
কত সহজেই বদলে গেলো জনপদ
কত সহজেই সবুজ ঘাসের দেশে উঠে গেলো বহুতল
এই শহরে আমিও সহজ হয়ে উঠতে চেয়েছি


এই যে আবর্জনা স্তুপে বেড়ে ওঠে আগাছা
ঐ ভেরেণ্ডার মতো তবু কেন বেড়ে উঠি আমি
কেন আবার নিজেকে সবুজে উপমায় 
দাড়ি কমায়, অক্ষরের ভূমিকায়  ?

এই যে ফুল ফুটেছে কি নাম এর ? 
জানি এর নাম শিউলি অথবা বকুল নয়

ঐ গাছের পাতায় রোদের ঝিকিমিকি
আমার কবিতা লেখা, আমায় চমকে দিয়েছে
আমাকে এতোটাই সহজ করে দিয়েছে