আর্যবর্ত
আর্যবর্ত
--পীযূষকান্তি বিশ্বাস
এই বর্ণময়তা নিয়ে এই বাগিচায় অরুণ আজ ফুল ফুটেছে
তুই দেখছিস শুধু তার পুষ্প পত্রালিকা
দ্যাখনা কেমন চট্টান দাঁড়িয়ে আসমুদ্র হিমাচল
কেমন উড়ছে তার পতাকা ।
এতোটা সহজ ছিলো না আর্যবর্তময়
অথচ কতো অনায়াসে আজ আমায় করছিস বিশ্বাস
এতোটাও মুক্ত ছিলো না শস্য খামার, অবারিত ধান ক্ষেত
এতোটা সহজে নিতে পারিসনি কখনো বুক ভরে নিতে নিঃশ্বাস ।
তবে শোন, শত শতাব্দীর ভাগীরথী গঙ্গার
আপন স্নেহে তার তিল তিল মাটি দিয়ে গড়া খাস
দেওয়ান ই আম নিয়ে রাজধানী দাঁড়িয়ে আছে এখনো লালকিলা
দেওয়ালে দেওয়ালে জুড়ে লেখা ভারতীয় ইতিহাস ।
ভুলে কি গেছিস তুই সফদরজঙ্গ ? পাগলা রাজার তুঘলকাবাদ ?
জল শুঁকিয়ে যাওয়া জীর্ণ পুরাতন বাউড়ি ঘিরে
সবুজ টিয়াদের ঝাঁকে এখনো উড়ছে শিশু শিশু মেহেরউন্নিসা
তুই দেখেছিস কখনো চাঁদনি চকের ভিড়ে ।
তুই শুধু ভাবিস যমুনা কেন কালো
অথচ দেখিসনি অথবা কখনো ধরিসনি পৃথ্বীরাজের ঘোড়া
মেহরলী তবুও মাথা উঁচু করে বেঁচে আছে
দিল্লি জানিস কি কারণ খাণ্ডবদাহে , কতোটা আগুনে পোড়া ?
মাটি মানে তো এক, অদ্বিতীয় ভারতমাতার ভূমি
রক্ত মানে তো জানিস ! বয়ে যাওয়া সরযূ , তাপ্তী নর্মদা রবি
আমি যদি তোর উত্তর পুরুষ হই, তবে ঠিক জেনে রাখিস
ভারতবর্ষের জনের জনের তুই, একজন পূর্বপুরুষ হবি ।