দিল্লি হাট

 দিল্লি হাট

১
হাটে বেচাকেনার পাশে পুতুলের ভিড়
লাল সাদা রেশমী কণকচুড়ির ঝনঝনানি 
বাজারহল্লার কাছে নতজানু যখন ফাইন কুটির 
জনৈক হাটুরের হাতে পুতুল হয়ে যাচ্ছে হাট
কেউ কেউ পণ্য বলে প্যাকেজে মিলিয়ে দিচ্ছে পা
আপাদমস্তক এক সাইন ওয়েভে
আবহমান বিজ্ঞাপন থেকে বিখরে পড়ে হাঁক

২
পুতুলদের দামদরের উপরনিচ, এই সাহজানাবাদ
পসারা মানেই তো সওদা নয়,
প্রণয়ধ্বনির কিছুতো তখনো থাকে শৃঙ্গারকলা 
মুঘল রাজকুমারীর জোহরিবাজার 
ইতরসৌরভে কবে যে রাজধানী হয়ে উঠেছে
ঘোড়সওয়ারের ধুলোয় ঢাকা এই লাস্যময়ী জনপদের 
আর একটি পুনর্লিখিত প্রেমপত্রের নাম দিল্লি হাট

৩
পুতুলগুলো কখনোই বিক্রিত ছিলো না  
যারা ভেবেছিলো হাতেগড়া খিলোনা,
পুতুলসম্প্রদায় ও নয়   
শিল্পকুটির জুড়ে বহুস্বর - আওয়াজে ধ্বনিত তার রগরগে কবিতা   
অই যে কৃষ্ণকায় অশরীরী নিম গাছ
ভোদকার সাথে বিসলারি মিশিয়ে 
মারাঠি বটাটা বড়ার পাদদেশে মুখগুঁজে 
সুতীব্র কামড়ের অপেক্ষা করে
ক্রয়বিক্রয়রহিত পুতুলসদৃশ কোন দীপঙ্করের মুখ 

৪
যে কেউ খদ্দের হতে পারে, যে কেউ বিক্রেতা
শিল্পও খাদ্য হতে পারে প্রাদেশিক স্টলে 
বিকাল বসন্ত নিয়ে এই আইলাকান্দি বালিকা
কণ্ঠে এই গজহার
রুহ-আফজায়ের সাথে চাইনিজ আতরের সৌরভ
দেখেশুনে কিনে নিয়ে গেলো লেহেঙ্গা চুন্নি
পাঁচিলের ওপারে আই এন এ মার্কেটে বন্যা ডেকেছে কৃষ্ণচূড়া 
আই আই টি থেকে তবু বঙ্গবধু কৃষ্ণা মিশ্র 
ভিড় থেকে আলাদা হয়ে পুতুলের জন্মকথা লিখবে বলে
বিজলী গ্রীলসের জলখাবারে 
অন্তর্ভুক্ত করিয়ে নিলো কড়ক আসাম চা ।

৫
হাটের ফোকাসে যদিও বহুজাতিক মুখ
পণ্যের আলোকে কণ্ঠ উঁচিয়ে  ধরেছে বাচিক শিল্পীরা
আর যে ছেলেটি স্কেচ আঁকে, সাদা পাতা জুড়ে 
বাজার ওকে দিয়ে ছবি আঁকায়
যে ছবির কোন অর্থ নেই, 
পুতুলের সদৃশ ওই মেয়েটির চোখে সে চোখ রাখে 
কবিতা পড়ার থেকেও গুরুত্বপূর্ণ এই চাহনি বিনিময়
স্থির কননীকা, ঠোট, বার্বিডলের মতো বুক
কিভাবে এই না ঘটা প্রেম সহসা দিল্লি হাট কে অর্থবহ করে তোলে

৬
পর্যাপ্ত আলোবাতাসে পুতুলেরা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে 
কিভাবে ওরা ফাটিয়ে পাক্কা ঝামা ইট,
ফৌজদারি আইনের ফাঁকে 
এই বনস্পতির অভিভাবকহীন বেড়ে ওঠা
কংক্রিট চাতালে বসে এই দিল্লির গ্রীষ্ম
পঁয়তাল্লিশ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড 
চাঁদা তুলে বইখাতার পসার জমিয়ে দিলো জলবিশারদ দিলীপ
নিউদিল্লির নন্দঘোষের চালাচামুন্ডেরা শুধু বইমেলাই করে গেলো
কোনদিন জানতেই পারলো না 
হাটে কখনযে চুপিচুপি বিষবাগীচায় ফুল ফুটে গেছে

৭
আওয়াজ উঠেছে কোথাও, কোথাও জমে গেছে অর্থ
পুতুলমানেই তো বিক্রয়যোগ্য নয় 
পট মানে শুধু তো ছবি নয় 
অথচ কুটিরশিল্পের কথা ভাবো, 
শিল্প তো আসলে সওদাই
ক্যানভাসে আঁকা হয়েছে যে সদ্য গর্ভবতী মেয়েটার অবয়ব
যাকে কোনদিন কোন কবিতায় লেখা হবে না 
শুধু হাটে অবিক্রীত পুতুলদের মুখে 
রা হয়ে আটকে থাকবে মুদ্রারক্ষসের হল্লা বোল

৮
আর দাশগুপ্ত যুবকের কাঁধে চাপিয়ে দেওয়া পুতুলকথা 
বিক্রি না হওয়া সেই সব পাওয়ার পোয়েট্রি
আর এইসব প্রচ্ছদ, পঙক্তি, উপমায়
শেরশাহের আমলে বেড়ে ওঠা বাতাবি লেবুর গাছে 
দিল্লির তরুণ তুর্কি গৌতম চাঁদ ঝুলিয়েছে
ভোটের শিলমোহর নিয়ে তার অর্ধ শতাব্দী 
দেশ গড়া , 
দেশ ভাঙ্গা
আর খন্ডহরের উপর দাঁড়িয়ে তুমি আমি বিশাখা
বিজলী গ্রীলের চাতালে টোডরমলের জমির সংস্করণ নিয়ে
দুপাতা ইতিহাস লিখি মাত্র ।

৯
তবুও বিক্রি হয়না যে পুতুলগুলো, 
চেহারা বদলকরে দোকানীরা পুতুল হয়ে যায়
দোকানীদের কোনটা দিন, 
কোনটা আচ্ছে , কোনটা বুরা,
প্রতিটা রাত মাত্রই একটি সঙ্গীতবিহীন রাত
নারীসঙ্গবিহীন
প্রাঙ্গণে ঝাট দেবার আগে দূরে দূরে জ্বলে ওঠে আবছা স্ট্রীট লাইট
অবচেতন থেকে একটা আলোর রেখা বুঝেছি আমরা কিন্তু
রিংরোড পার করে দুনিয়াদারির খোঁজে
কমফোর্ট জোন ভেঙে বেরিয়ে আসেনি কেউ

১০
তবুও দিন আসে, 
আর একটি সেভেন টুয়েন্টি সেভেন বাস এসে পড়ে
খরিদ্দারকে নামিয়ে অন্য খদ্দের দেখে ওলা ক্যাব,
হৈ হৈ দামাদামি, ক্রেডিট ডেবিট
খাদি পোশাকের মাঝে উঁকি মারে পণ্য পুতুলের হাত 
বহুজাতিক বিজ্ঞাপনের বারিক আলোয়
সি আর পার্কের বেবিডল সোনামণি চুড়ি কিনতে আসে
কবিতার আসর তার পড়ন্ত জানি
প্রশান্ত এই বিসলারী জলের ভিতর
খিলখিলয়ে হেসে ওঠে পুতুল 
অ্যালকোহল প্রভাবে
এই রোদ পাকা কবিতা ভাবে 
আমিই হবো তার শ্রেষ্ঠ বিক্রেতা ...