চুড়ি টুটি
সোফিয়া-৬
মৃতদের বাস্তুতন্ত্র নিয়ে এই আমার ধারণা
যার কায়া নেই, মায়া নেই, কোনবা ছায়া
দুবেলা মরার আগে রমণনির্লিপ্ত শূন্য আর এক
গতিজাড্যের প্রবহমানতা নিয়ে সেই জানে,
বিধবা হবার আগে সন্তান আকাঙ্ক্ষী সেসব রমণীরা
গনগনে আগুনের ভিতরে কখন
আত্মহুতি দিলো
এইভাবে আমি জানি কপার ওয়ার নিয়ে
মুখের অবয়বে ঝিলিক খেলে যাওয়া দিব্যধ্বনি
সোফিয়ার অধরের ফুটে ওঠা চুম্বক
মরণের কোন পরাবস্তব পংক্তিমালা
আর কোন জিজ্ঞাসা থাকে না,
কোন অব্যয়
তুমি আমি দুহাতভরা ফুল, বেলপাতা, খই
কুল নিয়ে আমাদের তুমুল জিজ্ঞাসা
সি বি টি বেসড প্রশ্নগুলোও যেন এতোটাই মৃত
চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়া ইন্দ্রনীল ঢেউ
সারস্বত্বের মৃতদেহ পরে পৃথিবীর ঘাসে ভরে যায়
সোফিয়া-৭
-----------------------------------
চুড়ি টুটি
-পীযূষকান্তি বিশ্বাস
এইখানে লাঙলের পয়া বরাবর লাল ঠোটের ধবল বক,
আলের পাশে
চাষবাস যখন অযান্ত্রিক বৈদিক প্রাচীন
আকাশের থেকে উঁকিঝুঁকি দিলে পাপ্পানকালান
এই চানা ক্ষেত জুড়ে জোরাজুরি
রাধিকা ক্রমশ আসে এই একবিংশ শতাব্দীর
চুড়িটুটির মাঠ, এই ক্ষেত খামার জুড়ে এতটা কঙ্কর
লাল, ঝামা, রেত মিলে দেওয়াল উঠে গেলে আকাশচুম্বী
সদ্য পেরোনো সোলাংকী কন্যা পিঠে বেণী দুলিয়ে
দক্ষিণ দিশা বরাবর টেক-অফ করে যাওয়া ইন্ডিগো-বোয়িং দেখে
হলুদ রাই ক্ষেতের দিকে তার নিঃসংকোচ চুন্নি উড়ে যায়
এই সময় বয়স হলো যখন স্কুল যাবার, দমদমা লেক
পাখিদের আনাগোনা
উড়ে যেতে চাওয়া হাওয়া আর ললনার সদ্য বুকে জমে ওঠা সৌরভ
অথচ এই বর্ষার দিনে বর্ষা নাই
ঋতুর আগমন দিয়ে তেল দিক সরষেক্ষেত
নাগরিক জীবনের ক্লেদ ঘাম নিয়ে ঈষৎ লবণাক্ত ছোলার ক্ষেত
অপেক্ষারত জাঠ যুবক দিল্লির কড়ক লন্ডা
যার উপর দিয়ে ফাইবার অপটিক্সের কেবল
যার মধ্য দিয়ে অন্তর্জাতের আই পি প্যাকেট
যার ভিতরে গুমটে রয়েছে সাইবার ভিডিও
যার দৃশ্যে রয়েছে পর্ণগ্রাফির কামশট
দ্বারকা সম্পূর্ণ পুনর্বাসন হবার ঈষৎ পরেই
গুটিকয় হোমো-সেপিইয়েনসদের আচমকাই মনে হলো
মাসকলাইয়ের লতানো গাছে আটকে গেছে নাবালিকা
রাধিকার ব্যবহৃত ছিন্নভিন্ন রেশম অন্তর্বাস
এতটাও তো স্বনির্ভর নয় এই জিন্দেগী
গল্পাশ্রয়ী এই মুকুন্দ ভিলায় পড়ে যায় অন্য ভাষার অন্য কবিতা
রাস্তা, ইট, নালা ছাড়া এই ভিরানায় কবি কে বা
কংক্রিটের চাতাল ফাটিয়ে মহানিম ছাড়ায় যে ডালপালা
এই আঁধার ঘনিয়ে আসে শস্যখেত জুড়ে
এই পাপ্পানকালানের শেষ নাগরিক হেটে যাওয়া অব্দি
দ্বারকার শেষ শস্য ঘরে যাওয়া অব্দি
সেক্টর আট থেকে সেক্টর বিশ
এক এপার্টমেন্ট থেকে অন্য এপার্টমেন্ট
মানুষের মাপে এই পৃথিবী দৈর্ঘ্য মেপে যাই
মানুষের মাপে এই পৃথিবী প্রস্থ মেপে যাই
মানুষ আর শস্যের দংগলে
মানচিত্রে বারবার বদলে আসে রং, রেখা, কনট্যুর
জন্ম থেকে জন্মে ঘিরে ফেলেছে নির্বাক চিত্রকল্প
শতজন্মের ভিতর থাকে যে সব অন্যরকম বলা
অন্যরকম ভাষার নতুন নদীমাঠ
সেই ধানিজমি, টিয়া পাখির ঝাঁক, ছোলার ক্ষেতের উপর
রাধিকা কোনদিন বিবাহযোগ্যার মত পূর্ণযৌবনা হবে
তার হাতে লাল লাল চুড়ি,
তার পরনে হালকা পাড়ে নীল শাড়ি
অথচ সে আজ কোন সোলাংকী ললনা
বারবার দেবরাজ বধূর মত কোন লাজুক
যে যেদিকে পারে আগুন হয়ে ওঠে
যে যেদিকে পারে পুড়ে যায় অনর্গল
পুড়ছে প্রতিযোগিতা থেকে উঠে কোন হলুদ রাই ক্ষেত
ফ্ল্যাটবাড়িকে ছেড়ে দিয়ে ছাই হয়ে যাওয়া গাঁও
এই নগরীর আষ্টেপৃষ্ঠে মানুষের শৃঙ্খল,
যান্ত্রিক গল্পের সংরক্ষণে এই নগরীর পরিখায়
মৃত কোন সাতভাইদের হাড় কংকাল
কোন পারুল বোন বুঝি আর তাদের ডাকতে এলো না
এতটাই কি ছিলো তোমাদের এই মেরুন প্রিয়তা
কবিতার বইয়ের প্রচ্ছদের মতো সেজে উঠেছে প্রপার্টি ডিলার
হরিৎ গমের ক্ষেতের উপর জোড়া শালিকের সংগম
তোমাদের অসহ্য মনে হলো
সবুজকে নিশ্চিহ্ন করে ইটের ইমারত
কোঠাবাড়ি, সুরম্য অট্টালিকা, হাইরাইজ ফ্লাটস
কাতারে কাতারে উৎপাদিত মানুষ আর শস্য
মানুষের পণ্য নিয়ে মানুষ বিক্রি করে মকান ডট কম,
মানুষ ইট হয়, মানুষ চুন হয়, মানুষ ইটালিয়ান মার্বেল
বৃদ্ধ সোলাংকীর মাংস, ঘাম, পুঁজ লাশ পচে গেলে মিশিয়ে মাটিতে
উর্বর হয়ে ওঠে ল্যাটেরাইট
এই বর্ষা চলে গেলো, কোন বারীশ নেই
মানুষকে খাচ্ছে আজ লতানো বীরুত
অথচ
যে কোন সবুজের চেয়ে আর মানুষের উৎপাদন বেশী
এইখানে ফিরে আসা মানে, ধনুকে ফিরে আসা তীর
লিখে ফেলা কবিতা থেকে ধারনা আলাদা করা
কবিকে মানুষ থেকে
মানুষকে কবিতার থেকে পৃথক করে আনা
দ্বারকা এমন এক নগরী, যার কোন ফিরে আসা নেই
পিচের সড়ক থেকে ছোলার সবুজ ক্ষেত এও তো যাত্রা
যার যদিও কোন অস্তিত্ব নেই, সুতরাং
নাল এন্ড ভয়েড
কোন সদ্য বিধবা রাধিকার চুড়ি ভাঙ্গা নিয়ে
চুড়িটুটির এই মাঠে একটা কিংফিশার বোয়িং ভেঙে পড়ার আগে
এই কবিতা পাঠের নিমিত্তে
দুপাতা সবুজ সহ কোন দূর্বাও বুঝি অবশিষ্ট থাকবে না আর !
তবু যদি দেখো, গল্পের শুরু
তার চলন, বাঁকা বা বাম্পী, এই এক রৈখিক হাইওয়ের মত কোন যাত্রা
স্পীড ব্রেকার নিয়ে কোন চালকের মনে সংশয়
একজন কবির মনে বসে থাকা কোন চেতনা
হোঁচট খায়, সিনট্যাক্স ভেঙে যায়
কলাই থেকে চুড়ি ভেঙে যায়
সদ্য কৈশোর পেরোনো রাধিকা স্কুলে যায় সবুজ সালোয়ার কামিজে
তার সদ্য বুঝি আর পেরোয় না
তার সদ্য থামিয়ে দিয়েছে এই মে জুনের দিল্লি
এয়ারপোর্টের মেট্রো এই থমকে দাঁড়ালো ,
লো-রাইড বাস এই রুখকে
মানুষ আর কংকাল নিয়ে সমগ্র দ্বারকা
দূষিত নিঃশ্বাস-সহ পালাম ফ্লাইওভারে আজ থমকে দাঁড়িয়ে...
দিল্লি হাট
১
হাটে বেচাকেনার পাশে পুতুলের ভিড়
লাল সাদা রেশমী কণকচুড়ির ঝনঝনানি
বাজারহল্লার কাছে নতজানু যখন ফাইন কুটির
জনৈক হাটুরের হাতে পুতুল হয়ে যাচ্ছে হাট
কেউ কেউ পণ্য বলে প্যাকেজে মিলিয়ে দিচ্ছে পা
আপাদমস্তক এক সাইন ওয়েভে
আবহমান বিজ্ঞাপন থেকে বিখরে পড়ে হাঁক
২
পুতুলদের দামদরের উপরনিচ, এই সাহজানাবাদ
পসারা মানেই তো সওদা নয়,
প্রণয়ধ্বনির কিছুতো তখনো থাকে শৃঙ্গারকলা
মুঘল রাজকুমারীর জোহরিবাজার
ইতরসৌরভে কবে যে রাজধানী হয়ে উঠেছে
ঘোড়সওয়ারের ধুলোয় ঢাকা এই লাস্যময়ী জনপদের
আর একটি পুনর্লিখিত প্রেমপত্রের নাম দিল্লি হাট
৩
পুতুলগুলো কখনোই বিক্রিত ছিলো না
যারা ভেবেছিলো হাতেগড়া খিলোনা,
পুতুলসম্প্রদায় ও নয়
শিল্পকুটির জুড়ে বহুস্বর - আওয়াজে ধ্বনিত তার রগরগে কবিতা
অই যে কৃষ্ণকায় অশরীরী নিম গাছ
ভোদকার সাথে বিসলারি মিশিয়ে
মারাঠি বটাটা বড়ার পাদদেশে মুখগুঁজে
সুতীব্র কামড়ের অপেক্ষা করে
ক্রয়বিক্রয়রহিত পুতুলসদৃশ কোন দীপঙ্করের মুখ
৪
যে কেউ খদ্দের হতে পারে, যে কেউ বিক্রেতা
শিল্পও খাদ্য হতে পারে প্রাদেশিক স্টলে
বিকাল বসন্ত নিয়ে এই আইলাকান্দি বালিকা
কণ্ঠে এই গজহার
রুহ-আফজায়ের সাথে চাইনিজ আতরের সৌরভ
দেখেশুনে কিনে নিয়ে গেলো লেহেঙ্গা চুন্নি
পাঁচিলের ওপারে আই এন এ মার্কেটে বন্যা ডেকেছে কৃষ্ণচূড়া
আই আই টি থেকে তবু বঙ্গবধু কৃষ্ণা মিশ্র
ভিড় থেকে আলাদা হয়ে পুতুলের জন্মকথা লিখবে বলে
বিজলী গ্রীলসের জলখাবারে
অন্তর্ভুক্ত করিয়ে নিলো কড়ক আসাম চা ।
৫
হাটের ফোকাসে যদিও বহুজাতিক মুখ
পণ্যের আলোকে কণ্ঠ উঁচিয়ে ধরেছে বাচিক শিল্পীরা
আর যে ছেলেটি স্কেচ আঁকে, সাদা পাতা জুড়ে
বাজার ওকে দিয়ে ছবি আঁকায়
যে ছবির কোন অর্থ নেই,
পুতুলের সদৃশ ওই মেয়েটির চোখে সে চোখ রাখে
কবিতা পড়ার থেকেও গুরুত্বপূর্ণ এই চাহনি বিনিময়
স্থির কননীকা, ঠোট, বার্বিডলের মতো বুক
কিভাবে এই না ঘটা প্রেম সহসা দিল্লি হাট কে অর্থবহ করে তোলে
৬
পর্যাপ্ত আলোবাতাসে পুতুলেরা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে
কিভাবে ওরা ফাটিয়ে পাক্কা ঝামা ইট,
ফৌজদারি আইনের ফাঁকে
এই বনস্পতির অভিভাবকহীন বেড়ে ওঠা
কংক্রিট চাতালে বসে এই দিল্লির গ্রীষ্ম
পঁয়তাল্লিশ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড
চাঁদা তুলে বইখাতার পসার জমিয়ে দিলো জলবিশারদ দিলীপ
নিউদিল্লির নন্দঘোষের চালাচামুন্ডেরা শুধু বইমেলাই করে গেলো
কোনদিন জানতেই পারলো না
হাটে কখনযে চুপিচুপি বিষবাগীচায় ফুল ফুটে গেছে
৭
আওয়াজ উঠেছে কোথাও, কোথাও জমে গেছে অর্থ
পুতুলমানেই তো বিক্রয়যোগ্য নয়
পট মানে শুধু তো ছবি নয়
অথচ কুটিরশিল্পের কথা ভাবো,
শিল্প তো আসলে সওদাই
ক্যানভাসে আঁকা হয়েছে যে সদ্য গর্ভবতী মেয়েটার অবয়ব
যাকে কোনদিন কোন কবিতায় লেখা হবে না
শুধু হাটে অবিক্রীত পুতুলদের মুখে
রা হয়ে আটকে থাকবে মুদ্রারক্ষসের হল্লা বোল
৮
আর দাশগুপ্ত যুবকের কাঁধে চাপিয়ে দেওয়া পুতুলকথা
বিক্রি না হওয়া সেই সব পাওয়ার পোয়েট্রি
আর এইসব প্রচ্ছদ, পঙক্তি, উপমায়
শেরশাহের আমলে বেড়ে ওঠা বাতাবি লেবুর গাছে
দিল্লির তরুণ তুর্কি গৌতম চাঁদ ঝুলিয়েছে
ভোটের শিলমোহর নিয়ে তার অর্ধ শতাব্দী
দেশ গড়া ,
দেশ ভাঙ্গা
আর খন্ডহরের উপর দাঁড়িয়ে তুমি আমি বিশাখা
বিজলী গ্রীলের চাতালে টোডরমলের জমির সংস্করণ নিয়ে
দুপাতা ইতিহাস লিখি মাত্র ।
৯
তবুও বিক্রি হয়না যে পুতুলগুলো,
চেহারা বদলকরে দোকানীরা পুতুল হয়ে যায়
দোকানীদের কোনটা দিন,
কোনটা আচ্ছে , কোনটা বুরা,
প্রতিটা রাত মাত্রই একটি সঙ্গীতবিহীন রাত
নারীসঙ্গবিহীন
প্রাঙ্গণে ঝাট দেবার আগে দূরে দূরে জ্বলে ওঠে আবছা স্ট্রীট লাইট
অবচেতন থেকে একটা আলোর রেখা বুঝেছি আমরা কিন্তু
রিংরোড পার করে দুনিয়াদারির খোঁজে
কমফোর্ট জোন ভেঙে বেরিয়ে আসেনি কেউ
১০
তবুও দিন আসে,
আর একটি সেভেন টুয়েন্টি সেভেন বাস এসে পড়ে
খরিদ্দারকে নামিয়ে অন্য খদ্দের দেখে ওলা ক্যাব,
হৈ হৈ দামাদামি, ক্রেডিট ডেবিট
খাদি পোশাকের মাঝে উঁকি মারে পণ্য পুতুলের হাত
বহুজাতিক বিজ্ঞাপনের বারিক আলোয়
সি আর পার্কের বেবিডল সোনামণি চুড়ি কিনতে আসে
কবিতার আসর তার পড়ন্ত জানি
প্রশান্ত এই বিসলারী জলের ভিতর
খিলখিলয়ে হেসে ওঠে পুতুল
অ্যালকোহল প্রভাবে
এই রোদ পাকা কবিতা ভাবে
আমিই হবো তার শ্রেষ্ঠ বিক্রেতা ...
ম্যাপ রিড্যুউস
১।
বিক্রম রেখাকে ডেকে বলল তার চলন বাঁকা
রিক্তা স্মার্ট ফোন থেকে রথীনেকে মেসেজ করলো
কাল পার্টিতে অসভ্য ঈংগিতের কথা
কোমরে ঘিরে আসা ঔদ্ধত্য
আকাশে তখনো শুধু একমাত্র রাত
চাঁদ হীন
চালুনিহিন
একা একা গ্রামোফোন রেকর্ডে নিখুঁত দেবব্রত বিশ্বাস বেজে যায়
ধোঁয়া উঠছে কাপ থেকে একা একা চা
বোধহয় দার্জিলিং - ধোঁয়া উঠছে ভেঙে যাওয়া ইয়ারানা থেকে
সম্পর্ক বলে যা কিছু
রীতি বলে যা কিছু
ফুল পাতা বেল
এই কোজাগরী পূর্ণিমায় তা রিড্যুউস হয়ে গেলো
একমাঠ বঞ্জর নিয়ে এই জ্যোৎস্নায় একাকী ঘেমে ওঠে মানচিত্র ।
২।
যমুনা ডাকছে ভাঙা বাংলায়
কাছে আয়, কাছে আয়
এই ডাক,
যাকে কোনভাবেই হরিয়ানভীতে অনুবাদ যোগ্য নয়
এত সাবলীল সহজ ভাষা থাকতেও সুলতানি মসনদ থেকে
মৈথলী বাদ , বাগরী বাদ, ভিল্কি বাদ
বাদ হয়ে যায় দাদখানি চাল
চাল থেকে চালুনি
মুঠো মুঠো শস্য নিয়ে সবুজ উঠে গেছে চাঁদ বরাবর
ঐ উন্মুক্ত তারাদের সাথে আশেপাশে
সাদাকালোয় ঘর বেঁধেছে
মূলভূমি থেকে তাড়াখেয়ে আসা ছিন্নমূল
রবিহীন
জীবনানন্দহীন
ভাষানো কচুরীপানার গন্ধ নিয়ে ভেসে ওঠে ওখলা স্যাংচুরারী
কালিন্দিকুঞ্জের পাখিদের কলকাকলী সহ
পায়ে পায়ে
ক্রমশ ভারী হয়ে আসে হিন্দি বেল্ট
--------------------------------------
ম্যাপ রিড্যুউস
-পীযূষকান্তি বিশ্বাস
৩।
রান্নাঘরে ফোড়ন মাথায়
মাথায় এই মুহূর্তে পাঁচফোড়নের গন্ধ
দুপুরের মেনু থেকে সাদা ভাতের সঙ্গে
বাদ গেলো হলুদবাটার সঙ্গে ধানি শোলের টক
বাদ গেলো শ্রীহরি মান্নার সঙ্গে বিনয় সংযোগ
রিড্যুউস হয়ে যায় ক্রমাগত বাংলা
গর্দান অব্দি ম্যাপিং হচ্ছে গন্ধচিত্র
এই এতদূর দিল্লির কোন এক বাঙালি কলোনী
মহাবীর এনক্লেভের কোন এক রন্ধনশালায়
কচুর লতির গন্ধে মম করছে উপমহাদেশ
আধভাঁজা রসুনের সঙ্গে এই পরাভয়
কবিতার দ্যোতনার সঙ্গে কখন কি জানি ম্যাপ হয়ে যায়
৪।
এখন বিপরীতে সাদা রেখেছি যখন
পরপর ঘটে আসা ক্রিয়া নিয়ে কাল হলো বেশ
সিরিজের পর সিরিজ
হাইটেনশন তারে বসে থাকা পাখিদের নিয়ে ছবি আঁকি
নীল, আসমানী, হলুদ, কমলা
ঠোক্করের পর ঠোক্কর
পাখিদের ঠোট
রিড্যুউস করে ফেলে ঘুম ভাঙানিয়া গান
এই বিরতিতে রেখেছি একলা কমলা
আর আচমকা বিদ্যুৎগতিতে ছলকে ওঠা নীল
হিসাবের ওপারে হিসাব নিয়ে
রিড্যুউস হয়ে যাওয়া শূন্য
ওঠা নামা করা পাতার অংক
অংকের পাতা
অগুন্তি প্রতিলিপিসমূহ
ছিঁড়ে যাওয়া খাতা থেকে ঝেড়েবেঁছে ফেলে দিই
কাটাছেড়া নির্লিপ্ত পংক্তি
দেখি আসন্ন বিকেলের ম্যাপ
নিজস্ব দর্পনে ঘুরে ফিরে আসা গোধুলিলগন
যে তিমির সেই তিমির
আকাশের দূর নিয়ে
দূর থেকে বাদ হয়ে যায়
একলা বেগুনী
৫।
ব্যালকনিতে ফুল ফুটেছে
ফুল ফুটেছে বনসাই সবুজের মাঝে
ঘরের যুবতী বৌ ঝাঝরি হাতে গাছে জল দেয়
আর গাছ ভাবে
তার ফেলে আসা যৌবনের কথা
শৈশবের ফেলে আসা গ্রাম বাংলার
চন্দ্রমল্লিকার চমকিত চোখে নেচে উঠেছে ফুলবাগান
ঘর আলো করা বঙ্গবধু আজ শাশুড়ির নরম আদরে
গদগদ কণ্ঠে গেয়ে ওঠে রাগ ভৈরবী
এখন তুলসীর কর্ণকুহরে
কাঁটা দিয়ে উঠছে পড়শীর বেহিসাব ডোর বেল
বিকেলের অনুগ্র আলোয় লালনের আরশীনগর
সুডৌল ডালিয়া কখন ম্যাপিং হয়ে গেছে
সূর্যমুখীর ঠোঁটে বিশমিল্লার বিষাদ, এই দেখো
ভ্রমরের একটানা কান্না
মধু নিয়ে আগ্রহী খরিদ্দারগণ এইক্ষণে বাদ পড়ে গেছে
সবুজের গান মাঝে তৃণলতা ভাবে আজ উল্লসিত
ঝাউবনে ঝরে পড়ে ভীমসেন যোশী
সূর্য উঠেছে আজ আশাবরী রাগে
কৃষ্ণকলির কোমল অঙ্গে কি শোভা কি মায়া গো
বটের মূলের সাথে বাদ হয়ে গেলো সে ভ্রমরের গুঞ্জন
লাল গাঁদার ফুলের আগুন পাপড়িতে
পৌষের বিকেলের আলো কিভাবে রিড্যুউস হয়ে গেলো
6.
--------------------------------------------------
রিসাইকেল বিন
যতবার ই আগুনে দাও হে প্রহ্লাদ
জন্মের ইতিহাসকে ছাইগাদার নীচে স্থগিত রাখো,
সন্ধানী চোখ
খুঁজে নেয় বাইটে বাইট, ফাইবারে ফাইবার
একটি কামড় থেকে আরেকটি কামড়ে
প্রতিসারিত হয়ে যায় আলোর ফ্রিকোয়েন্সি !
কারকাসের ভিতর থেকে উড়োজাহাজ বের হয়ে এলে,
দারুন ইম্প্যাক্টে ধামাকার শব্দধ্বনি কিভাবে আকাশকে জাকড়ে ধরে !
হে অরুন, তুমি তো পঞ্চাশ বছর ধরে যমুনা আর গন্ধ নালার বৈসাদৃশ্য দেখে গেলে
কখনো, ব্লাস্ট আর ব্লাক বক্সের সম্পর্ক
খুঁজে দেখ একবার
হাড় হিমকরা ডিলিটেড ফাইলগুলো
রিসাইকেল বিনে পড়ে আছে ।
Recycle Bin
Every time you put him into fire
Or bury him beneath the ashes
It would be opened up by detective eye
To realize it to byte to byte, fiber to fiber
Biting it to tooth to nail and
Despite the tragenctory sighted by a refraction ,
Light travels through
A flying aeroplane is afraid of carcasses
Lest firebirds kiss him
a BANG ! that is all
The sound tarvells faster over the sky,
Hey Zeus, have you even unlocked mistry over a century
Yet to establish the relation between a blast
And a black box
Have some minute glance upon
you can see them through
The dreadest of dread of these deleted files
Are still sitting pretty in the Recycle Bin
---------------------------------------------
হাইওয়ে
যেভাবে একের পর একটা মাইলস্টোন আসে
গতিবেগকে পিছনে ফেলে আগে বেড়ে যায় হাইওয়ে ,
প্রত্যেকটি পথ তাই আরো পঞ্চাশটি অন্ধকারের গন্তব্যের রকমফের
প্রত্যেকটি অন্ধকারকে আরো ঘন করে তোলে
এক একটি জঙ্গল
হে প্রভূ আমার ঘুম আসে
পাছে ঘুমাবার আগে
আরেকটি ধাবমান গতি আমার পেছনে প্রবলভাবে অনুভূত হয়
চাকাগুলি ঘুরে আসে নিজের বুকের উপর
আমাকে ছুটে চলতে হয় ।
বিভিন্ন গন্তব্যের দিকে
বেঁকে আসা গ্লসি ব্লারড্ ছবিগুলি বিপরীত
রাইট অ্যাঙ্গেলে ক্রমাগত সরে যায়
কথা দেবার আগে,
আমি তাই আরো একবার মেপে নিই যাত্রাপথের দূরত্ব
প্রতিজ্ঞাগুলি লক্ষ্য করে ছুটিয়ে দিই দৃষ্টি
আরো দূরে সরে যায় সবুজের রেখা,
জঙ্গলগুলি আরো গভীর হয়ে আসে
হাইওয়েকে দাঁড় করিয়ে নিজেকে প্রশ্ন করি
ঠিক কতটা গভীর ঘুম পেলে
এখানেই থেমে যাওয়া যায় ।
ঘুম থেকে গন্তব্য তখনো অনেক দূর
কিংবা ঘুমটাই যখন কোন গন্তব্য ছিলো না
অথবা কোন দেশরেখা
শুধু হাঁটতে হবে বলে আবিষ্কার হয়েছিলো এই পথ
কিংবা আমাদের পথ করে নিতে হয়েছিলো গাছপালা কেটে
নিশ্চুপ ঘুমের অজুহাতে
যেহেতু পিছনে পড়ে যেতে হয় ,
ক্রমাগত মুখের উপর উঠে আসে নতুন জনপদ
আমার ভিটে বাড়িকে দেওয়া অঙ্গীকারগুলি,
খাদ্যের তাড়না এড়িয়ে এগিয়ে যায় মাইল ফলক
ঝড় তুলে ঝাঁ করে বেরিয়ে যায় যেসব মারুতি, হুন্ডাই
তারা আর পেছন ফিরে দেখেনা বোধহয়...
Highway
Like the way milestone comes one after the other
The highway overtakes the speed
Each stoppage is thus a variation of several dark destinations
Making the darkness denser after each a jungle
Hey God, I feel torn and tired
Lest another momentum pushes me from behind
Before I retire
The wheels on my chest
Pushes me further to run constant speed
Towards varied destinations
Diverging glossy blurred images
Shifting at right angles with
a stream of continuity
Before I commit, I compute the distance
The woods may be green and horizon gets denser
Before I stop here and ask
How dense should be the desire to sleep
So as to retire
Destination is yet too far
The sleep is farther away
Neither sleep nor a destination
Which Crawls up on my belly
on my face, with whirling storm by those high speed
Honda, Suzuki, Fiat passes away
Theylook back at me never perhaps!
---------------
তান্দুরী
পানের থেকে চুন খসে গেলে
দেওয়াল বেরিয়ে পড়ে ,
ঘর বে ঘর
যে ভাবে বেআব্রু ডাক পাড়ে ছাদ,
দরজাগুলো যেভাবে পা আটকে ধরে
জানলার কাঁচগুলি সবুজ রঙে ভরে যাচ্ছে
এভাবে না ডাকা ভালো, টিপ টিপ বরষা পানি
কতবার বলেছি হলুদ শাড়িটায় বার বার আপত্তি
জঙ্গলে আগুন ধরে যায়
তবু এই বুনো গাছটা দেখো, বিলকুল অ্যানালগ
বৃষ্টির গন্ধ তার রুক্ষ কপোল জুড়ে
তার হাতে ময়লা হয়ে যাচ্ছে মহাভারত
ক্ষীন হয়ে আসছে তার ডাক
এই রক্তে, মাংসে, মাইক্রো-ওয়েভে
একটু একটু করে তান্দুরী হয়ে যাচ্ছে সাদা কালো মাটি -
এভাবেই ভৌগলিক,
এক অবস্থান থেকে পূর্ণ জনপদে মিশে যায় পা
মানচিত্র ছেড়ে পেরিয়ে যায় এই শহর
বুকের গন্ধ থেকে অনেক দূরে খাদ্যের ভূমিকায়
কুহরা কাটিয়ে
বাদশাহী দিল্লি আপন চুল্লিতে জ্বলে ওঠে ।
---------------------------
You have seen plaster comming out
From a wall when there was a tiny mistake
With no margin of error
Yet, doorstep wants the footstep back
You see, the greener side of the windows
Dont call me again and again when you wear red sari
With dashing apples on your front
It just burns the jungle
Yet, if you have a look on this unknown tree
There is no rain in his luck
We can hardly hear his cry
With blood, with flesh
He becomes tandoor at the woven
This is how - this is geographic
By walking from one district to nother
The city ejects itself out of the map
No one realy belong to someone
With clearance of fog of the winter
In the search of foods,
Badasahi Delhi ignites itself into redish tandoor.
অ্যালয়
অনুপাত থেকে পাতা টেনে নিলে
মোচার উজ্জল বাদামী পাপড়িতে
আত্মারা অমাবস্যার রাতে স্তন্যপায়ী হয়ে ওঠে
সঠিক মাত্রা থেকে এক দুটি ভুল
পুনঃ পুনঃ
সঠিকের সংজ্ঞা পালটে দিতে থাকে ।
যে কোন অবস্থায় ধাতুর অবস্থান
শুদ্ধতার কারনে যে কোন ডি-এন-এ প্রিন্ট নিয়ে নেয়
একটি গুণিতক নিদর্শন থেকে
বিভাজিত হতে থাকে ডিম ।
পশ্চিম থেকে পূবে
ঘর থেকে হাসপাতাল
ঘন্টা ধ্বনি শোনার জন্য পিতলের কাছে আসতে হয়
যেখানে সঞ্চিত রয়েছে খাঁটী কাচ্চি তামা
তোমরা আমার সবচেয়ে প্রিয়তমাকে
আর সংকর বোলো না ।
-----------------------
Alloy
If you blow up a paper from a proportion
You can discover a mamal on vegetables
In a dark night of a new moon
With appropriate formluae
With a margin of error again and again
It keeps changing of the defininition of purity
It means, on any day, it restate that
The metals has a state
And DNA get a geometrical print
The egg keeps deviding itself into millions
From east to west
From home to hospital
To hear a sound of a bell
One need to come to a brass model
There is stored purest form of copper
Please never call my sweetest beloved
As an alloy
অন্ধকার
ফোঁটা ফোঁটা ঘাম থেকে দু-আঙুলে কপালটা সরিয়ে
অন্ধকার কে আরও একবার দেখলাম
কি নিদারুন দক্ষতায়
স্পষ্ট করে তুলছিলো আলোর বৈপরিত্য ,
শ্রম আর স্রোতের ভয়ংকর যুগোলবন্দী,
তাঁর এক নেশাতুর আকাঙ্ক্ষায় - অভিসম্ভাবী লক্ষ্যের দিকে বেড়ে যাওয়া
আরো, আরো, আরো
জ্যোৎস্নার সৌন্দর্য্যকে আরো বাড়িয়ে তোলা ।
রাত্রির কাজল চোখে রুপমতী যুবতীর মত চাঁদ সাজিয়ে তোলা
সম্পর্কের অবস্থানগত পরিকাঠামোতে
কয়লা শ্রমিকের মত তাঁর কালো তাঁর গা থেকে প্রতিষ্ঠান ছিটকে ফেলে
আর আলোর গায়ে গা পেঁচিয়ে
ধুন্ধুমার প্রতিচ্ছায়ায় নিজেকে মুছে ফেলা ,
যতক্ষন না
ঈশ্বর কণাগুলো পড়ে থাকে
স্রোতের শেষে চরার পর চরা ।
জ্যোৎস্না, এত ব্যবহৃত বণিতা আজ
অন্ধকার ও জানতো এ কবিতার শহরে জ্যোৎস্নার শহস্র শহস্র
হোমো বা হেটেরো প্রেমিক
তবুও সে
প্রমান করতে চেয়েছিলো তাঁর নিজেরই অস্তিত্ব ।
--------------------------------------