ঈ - uUU ri li e O OU
সে কথা কখনো বলা হয়নি
আমার নাম কখনো মহাদেব ছিলো
এই দীর্ঘ চোদ্দশো কিলোমিটার জুড়ে আমার গ্রাম
ক্রমশ ক্ষীন হয়ে আসা ছোট খোকার কথা কওয়া,
আজ দীর্ঘ ত্রিশবৎসর তার অক্ষরযাত্রা
আমার সেই হারিয়ে যাওয়া বর্ণমালা
আর দুরন্ত গতিবেগের এন-এইচ-৮ ফের মুখোমুখি ।
হার , জিত , দৌড় , রেস - মাটি মনে রাখে না ,
যে কোন পুরস্কার মূল্য আর লালবেলের খিলান ,
বরং এটুকুই আমার অহংকার থাক
যে এতটো দীর্ঘ পথ আমি হেঁটে এলাম
বর্ণমালার চিহ্ন চিনে চিনে !
বরং আমার গল্পটা হ্রস্বই ছিলো ।
আমি ভুলে গেছি সেই পুরানো প্রেমিকার নাম ।
বিস্মৃতির অতলে চলে গেছে
কাঁপা হাতের লেখা প্রিয় অ আ ক খ ।
এখনো দাঁড়িয়ে আছো ? কুতুবমিনার ?
যদি কারো নাম লেখা পাই টেরাকোটার খাজে খাজে ।
বুঝি,
তাকে বুঝে ওঠা এখনো ইন্দ্রিয়ের পার
নাসিকা গ্রন্থির কাছে উদ্রেক হয়ে আসা গন্ধ
আমাকে কানে কানে বলে যায়
কোন কিশোরী মল্লিকার নাম...
লিখে চলি সেই হ্রস্ব প্রেমকথা
যদি কোন দিন সে লেখনি দীর্ঘ হয়ে ওঠে ।
দীর্ঘ ঈ একটা বিশ্বাস ,
একটা শ্বাসের মত -আমি তাকে উচ্চারণ করি,
সে ঈশ্বর হয়ে ওঠে ।
-----------------
উ
নিজের বাগিচায় আমার একটি সুন্দর ফুল আছে
আমি তাকে দেখি প্রতিদিন
ফুল, একটি সাধারণ ফুলে মতোই রঙে ভাষ্কর ।
আর তুমি ভেবেছো ত ছিঁড়ে
মায়ের মন্দিরে পুজো দেবার কথা
অথবা বিছিয়ে দিতে চেয়েছো
প্রণয়রাত্রির বিছানায় ।
আর আমি ভাবি সেই বৃষ্টিহীন পাহাড়ের কথা
বৈশাখের নিদাঘের কথা
পাহাড়ের বুকে যেখানে ছায়া ঘুরে বেড়ায়,
একটা ফাটল গভীর হয়ে আছে,
নিয়তির কপালে একটা বীজ এখানে কি করে এলো ,
পাথরে ঘেরা এই আরাবল্লি রিজ
যেখানে তুর্কী সৈন্য ছাড়া
কাউকেই ছাউনি ফেলতে দেখিনি
এই তো তেতাল্লিশ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড জুলাই আগস্ট
আবহাওয়ায় প্রতিকূলতার নিঃশ্বাস
এই তো শুন্য ডিগ্রি জানুয়ারী শীতল ও কঠোর অথচ কোন মালীর স্পর্শ নেই বহুদিন
ঝড়ের বিপরীতে এই বন্ধুর রুক্ষতা নিঃসঙ্গতায় সে তার প্রবাস গল্প বলে ।
নিঃশব্দ ও একদিন ফেটে ওঠে
পাথর ফাঁটিয়ে দিয়ে
সমস্ত প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে
পাপড়ি মেলে উন্মোচিত হয়ে ওঠে ফুল
ফুল ফোটে নীরব অলখ্যে বিনা পরিচর্যায় ।
প্রকৃতির ভিতর আমি একটি ফুল দেখি
ফুল,
তাকে ফুটে উঠতেই হয় ।
ঊ
নক্ষত্র আমায় ডেকেছে
আর আমি তোমার সঙ্গে ল্যাদ খাই
যে কোন সময়ই আমি চলে যেতে পারি
এই তিমির পার করে
জামাকাপড় গুছিয়ে এক্কেবারে যাওয়ার কথা ভাবি,
এই যেন নিজেকে কখন বলি শুভযাত্রা ।
রাতের নিস্তব্ধতায় একটি ফিসফিস ডাক শুনি,
অন্তহীন করিডোরে আমায় ডাকে একটি অন্ধকার সুড়ঙ্গ ,
সুদূর আমাকে ডাকে
আর আমি আটকে আছি গোধূলির বুননের মধ্য
এই অক্ষর প্রসংগে নিজস্ব স্বর্গে অন্তহীন
অনুসন্ধানকে বুকে নিয়ে আমার অপার সাধনা
আমার বিশ্বাসকে নিয়ে আমার পীযূষকান্তি
আমার তেত্তিসফুটা নিয়ে নিয়ে আমার শ্বাস
আমার ফুস্ফুস চিকিত্সা নিয়ে
হাসপাতাল মহারাজা অগ্রসেন ।
দূর আমাকে টানে
আর আমি তার দীর্ঘকে ভয় পাই
দীর্ঘ ঊ
পাছে আমার নিশ্বাস ফুরিয়ে আসে
বিদ্রুপ করে ওঠে দূর দূর
আমি হারিয়ে ফেলি আমার খেই
আত্মার সঙ্গী নিয়ে আমি মঙ্গলাপুরি বসে থাকি
আমি আমার নিকটের সঙ্গে বসে ল্যাদ খাই ।
ঋ
এতো
গুলো দশক কাটিয়েও তুমি দেখতে পেলেনা
ফিরে
আসার পথ,
যে পথে
তুমি অতিক্রম করেছো নিজেকে ।
প্রথম
দিন থেকেই তো বলছি একই কথা
এইখানে
বিরতি দেওয়া যাক, এই অক্ষরেখা বরাবর
এই যে
টেনে দিচ্ছি রেখা আবার, নাও
দ্যাখো একবার ।
আমি
সত্যিই কি টেনে দিলাম রেখা
মনের
ভেতর থেকে লাইনগুলো ভাবি
রেখা
টেনে দেওয়া বড় কঠিন
কঠিন
বড় এই টেনে দেওয়া অক্ষ
সৃষ্টি
বলে যা কিছু লিখে ফেলা পঙক্তিমালা
সেও
কিছু মৌলিক বলে দাবী করা যায় না ।
ঋ একটি
ধারনা
রেখা একটি
কাগজের মোড়ক
কাব্যচিন্তায়
বসে থাকা এক সৃষ্টি
শ্রেষ্ঠ
মুহূর্তে তার ধমনীতে বয়ে আসা রক্তপ্রবাহ
কালি
দিয়ে, কলম দিয়ে সাজিয়ে রাখা এক অজানা
শূন্যতা
ভাষাহীন
মাধ্যমহীন অকম্পিত কণ্ঠস্বর
আর আমি
তার প্রচ্ছায়ায় অক্ষরেখা দেখি ।
দেখি
আমার ভিতর এক ঋষি
এক
অভ্যন্তরীণ আলোর সিম্ফনি,
আমিই তার
চিন্তাসূত্র,
আমিই উড়িয়ে
দিই তার বিশুদ্ধ উড়ান
নিজেরই
অক্ষমালায় ৬৬ ডিগ্রি কোণে
আহ্নিকগতি
শেষ করে
নিজেই
ঘুরে আসি আমি আমার অক্ষ বরাবর ।
ঌ
এই
শহরে তুমি আমি বেঁচে আছি,
বেঁচে
আছো তুমি, কোন আমি ছাড়াই
বেঁচে
আছি আমি কোন তুমি ছাড়াই ।
নদীহীনতায়
হারিয়ে যাওয়া শস্য
অক্ষরহীনতায়
হারিয়ে যাওয়া বাংলা
ঘুলঘুলিহীনতায়
হারিয়ে যাওয়া চড়ুই দম্পতি ।
এই
গরমে হাওয়া ডেকে ওঠে
জলীয়
বাষ্প লিখতে কোন ঌ লাগে না ।
উতপ্ত বাষ্প
নিয়ে আবহাওয়া
বড়ই রুক্ষ
শহরের
হৃদয়ে যেখানে কংক্রিট ছড়িয়ে আছে
একটি
চড়ুই তার ম্লান ডাক গায়,
একসময়
প্রচুর আকাশ ছিল তাদের,
এখন
সর্ব মানুষের স্তরে ছায়া।
ঌ একটি
হারিয়ে যাওয়া প্রজাতি
স্বরবর্ণের
ছায়ায় বিপন্ন জীবনে বেড়ে ওঠা,
এই
উত্তরআর্যাবর্তে প্রবাসী বাঙালী ঘরে
তার ডিগবাজী
খাওয়া ছাড়া আর কোন প্রয়োগ
যেন বিপন্ন হয়ে আসে ।
ও
তোমায় দেখতে খুব উজ্বল লাগছিলো
অসাধারণের ঝলকানির মাঝে,
এক অন্তহীন স্রোতে এক ঝলক,
আমি দূরে দাঁড়িয়ে তোমায় দেখছিলাম
তুমি ভাস্বর , তাই দেখি তোমার অবয়ব
তুমি কণ্ঠে উচ্চারণ করে ওঠো শ্লোক
আমি তার রচনাকার হয়ে
নিশ্চুপে শুনতে থাকি ।
ও আর বাচিক
একই রকম, আমি উহ্য থাকি,
দরকারে অদরকারে চলে আসি মাত্রায়
তুমি ভালোই জানো হে শিল্পী
তুমি কণ্ঠে উচ্চারণ করে ওঠো কবিতা
আমি আছি, অথচ আমি নাই
না দেখার ভান করে উদাসীনতায়,
ও বলে চলে যাও ।
আর আমি ও বলে কিভাবে
উদাসীe তা, ঠান্ডা বা নিষ্ঠুর নয়, বরং কেবল শান্ত, একটি স্থির নিয়ম, বিস্ময়ের বিশাল ছায়ায়, আমি বাস করি, একটি নিরপেক্ষ হৃদয়, যেখানে চিন্তাভাবনা বাস করে।
পৃথিবী যে বিস্ময় প্রমাণ করেছে তার দ্বারা।
রাত জুড়ে ধূমকেতুর ঝলকানি, বিশুদ্ধ আনন্দের এক সিম্ফনি,
তবুও আমার হৃদয়ে, একটি শান্ত বিরত থাকা, উদাসীনতা, একটি শান্ত শৃঙ্খল।
পাহাড় উঠে, সমুদ্র গর্জন করে, প্রকৃতির জাঁকজমক, উপাসনার জন্য, কিন্তু আমার মনে, একটি নীরবতা রাজত্ব করে, একটি নিরপেক্ষ ভূমি, যেখানে বিস্ময় বিরত থাকে।
মহাজাগতিক নৃত্যে তারার সংঘর্ষ, জীবনের বিশাল দৃশ্য, একটি সুযোগ, তবুও আমি এখানে দাঁড়িয়ে আছি, আমার আত্মা স্বাচ্ছন্দ্যে, মহিমার মৃদু বাতাসে অস্পৃশ্য।
কারণ এই অবস্থায়, আমি একটি শান্তি খুঁজে পাই, একটি ভারসাম্য যেখানে চরমতা থেমে যায়, একটি বাধা, মৃদুভাবে স্থাপন করা হয়, বিশাল মুহুর্তগুলিতে, যেখানে সময় চিহ্নিত করা হয়।
একটি উল্কা তারকা, একটি পুষ্পের প্রস্ফুটিত, প্রকৃতির অন্তহীন ঘরে উন্মোচিত হয়, কিন্তু আমি থাকি, একটি শান্ত দৃষ্টি, বিশ্ব যা আদেশ করে তাতে অটল।
তাই বিস্ময়গুলিকে উত্থিত হতে দিন এবং পতন ঘটান, মহৎ গল্পগুলি, উচ্চতম আহ্বান, কারণ এই স্থানে, আমি আমার অবস্থান খুঁজে পাই, মহৎ প্রদর্শনীর প্রতি উদাসীন।
ঔ
একটি ভাগাভাগি আনন্দ
যেসব উজ্জ্বল মুহূর্তে ছায়া ম্লান হয়ে যায়, আর হৃদয়ে আনন্দের আলো বিরাজ করে, আমি এক উষ্ণতা, এক বিস্ময়কর উল্লাস অনুভব করি, আমার সঙ্গীর জন্য, তুমি কাছে আছো।
একসাথে, আমরা দিনটিকে আলিঙ্গন করি, হাসি, স্বপ্ন এবং শব্দে আমরা বলি, প্রতিটি পদক্ষেপ, একটি ভাগাভাগি করা যাত্রা, তোমার সাথে, পৃথিবী কম ফাঁদে আটকা পড়ে।
আকাশ, একটি প্রশস্ত এবং মুক্ত, আমাদের ভাগাভাগি করা আদেশে রঞ্জিত, প্রতিটি তারায়, প্রতিটি রঙে, আমি আমার বিস্ময় খুঁজে পাই, তোমার জন্য ধন্যবাদ।
সাহচর্য, একটি বিরল ধন, তোমার মধ্যে, আমি আমার হৃদয়ের মেরামত খুঁজে পাই, পরীক্ষার মুখোমুখি হওয়া এবং আনন্দ উন্মোচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে, আমাদের বন্ধন, একটি গল্প উজ্জ্বলভাবে প্রশংসিত।
কারণ তোমার উপস্থিতিতে, জীবন প্রসারিত হয়, হাত মিলিত হওয়ার একটি সিম্ফনি, আমি বিস্ময় অনুভব করি, বিশুদ্ধ এবং সত্য, তোমার সাথে কাটানো প্রতিটি মুহূর্তে।
তাই আসুন আমরা পাশাপাশি ঘুরে বেড়াই, অজানা পথ এবং জল বিস্তৃত, কারণ এই যাত্রায়, আমরা খুঁজে পাব, দুটি হৃদয়ের বিস্ময়।
হাসির গান আর নীরবতার মিষ্টি সুরে, তোমার সাথে, আমার পৃথিবী আরও পরিপূর্ণ মনে হয়, এক ভাগাভাগি করা আনন্দ, এক বিশাল আনন্দ, তোমার জন্য, আমার বন্ধু, আমি সর্বদা দাঁড়িয়ে থাকব।