ইট -১


 ইট -১

সীমান্তে সীমারেখার দূর নেই

তুলোটকাগজে আঁকা অনন্ত এক

ওই খানে পাখি ডাকা মানা

ঠোটে ঝিলিক খাওয়া শূন্য ঝিকিমিকি

ডানায় লালডোরা দাগ ।


এ জমির নাম কি নাম দেবো

কাঁচ মানে তো রেশমি চুন্নির আড়

পাখিরা উড়তে পারছেনা দেখে

স্কুলফেরত জাঠতনয়ার আঁখ ভরে আসে ।


বনান্তে ডেকে ওঠে পাখি

এতদূর থেকে আর ফেরা যাবে না

এতো কিছু জেনেও ভিজে ওঠে দ্বারকা

গর্ভে সবুজ নিয়ে 

তার জননী হয়ে ওঠা হবে কি হবে না 

মাটি তবুও তার নাজুক হয়ে আসে

এতো কিছু জানা স্বত্বেও 

প্রবল পরাক্রমে হে মালিক  

তার কোমল গোপনাঙ্গে 

কেন যে লাল ঝামা ইট ঢুকিয়ে দেওয়া 



ইট -২


ইটকে ইট বাজিয়ে এই সড়ক

নাগরিকতা ছাপিয়ে যাওয়া দ্বারকা এক্সপ্রেসওয়ে

এইট-লেন ঝাঁ চকচক,

এখানে আমি তোমার নামকরণ রেখে যাই

আর এইখানে তার হলুদ রাই


কোমরবন্ধে আগুন আর আভা নিয়ে

ধোলাকুয়া থেকে কখন যে কুয়া উঠে যায় 

আর এই গাঁও কখনযে গুরু হয়,

কখন যে গ্রাম

কখন যে 

লালে লাল হয়ে যায় ।


---------


ইট -৩


আনজান উড়ানরেখায় যে তীর চলে গেলো 

তুমি তার খাতা লিখে রাখো 

যে ইট কখনো নৈতিক নয়, 

তুমি তাকে ভাট্টিতে জ্বালিয়ে দাও।


আর এইখানে কাকরোলা মোড়, 

পাখিরা ডেকে ডেকে এখানেই ঘুমিয়ে পড়েছে,  

যে জীবন ছোলার নয়, মুশুরের নয় , 

এই জেনে 

গগনচুম্বী এই লালমাটি যে ফসল ধরিয়েছে

তার জানকারি এমন খতরনাক  

বদলাও বললে সে বদলায় না 

ইটের যেকোনো নিকনেম রাখো 

একটি ইট আর একটি ইট দিয়ে তাকে থ্যাঁতলে দিয়ে যায়



ইট -৬


বাজিয়ে চলে যাবে আমি এমনও ইট নই

বাজাতে হলে ধরতে হবে ঠিক কানপট্টির নীচে

গোলেমালে দাদরা যথেষ্ট দাদরা নয়

প্রসাদ মানেই নয় বরাবর মিষ্টি  

ওহে দাদাভাই 

বিনবুলায়ে তড়িঘড়ি মায়ের ভোগে চলে যাবে ।


আগে আমায় বলো - 

কে এই শহর ডেকে এনেছে 

এখানে জমি দখলের মাস্তান কাটা হলো

জেনে নিই - কে এই গ্রাম এনেছে

গুণিতক হারে যার আধার কার্ড বানানো হলো ।


পুকুর কেটে যে কুমির এনোছো কুমার

তুমি তাতে তো ঘটি  কিভাবে ডোবাবে

বরং ডুবে গেলো পাকা ঝামা ইট 

এখন কি বাজাবে পিকনিকে একা গাঙ্গুবাই 

আম গাছে একা এক কবি 

মঞ্জরীসহ কার যে পাটকেল ঝুলে আছে । 


তুমি তার দৃশ্য দ্যাখোনি

তুমি তার গান শোনোনি  

শুধু  ট্রিগারে একটা আঙুলের চাটি

ব্যাস,  কাম তামাম বেজে ওঠে ।


ইট এমনই এক শর্ত 

ইট এমনই এক তাল

কখন জানি কার কাহারবা বেজে ওঠে ।



ইট -৭


জাদু জানে জাদুগর 

আমি তার ঘর পাহারা দিই

কি কি জানে আর কি কি জানে না 

সে ভালোই জানে

আমি তার বাস্তবতা খুঁজি

খুঁজি,  কি করে জাদুগর

ব্যাগের ভিতর থেকে বিড়াল উধাও করে ।


জাদু জানে জাদুগর 

আমি তার টুপি পাহারা দিই

কি করে সে টুপি পরায়  

প্রত্যেকবার সে খুলে দেখায় শূন্য টুপি ঘর

বিলকুল সাদাসিধে নির্ভেজাল  বাবুমশাই 

আমাদের চোখে সে ধুলো দিয়ে 

টুপির ভিতর থেকে টেনে বের আনে 

জ্যান্ত কবুতর । 


চমকিত নয়নে 

বুঁদ হয়ে দেখি তার খেলা পেক্ষাগৃহে

কি করে তার চোখ উপরে যায়,  হাত অন্যদিকে

অতিসুক্ষ ভাবে ছড়িয়ে রেখেছে ইন্দ্রজাল ! 


আমি সেই জাল পাহারা দিই   

যদি, একবার ধরতে পারি,  বুঝে ফেলি জাল  

ইটের পর ইট বাজিয়ে 

শালা তার যাদুর জাল ছিড়ে ফেলে দিই  ।


ইট -৮

 

লঘুতর হয়ে ওঠার আগে একবার জ্বলে ওঠো দীপ

ভাট্টিতে কারো নজর পড়েছে গহরা বহোত

আমা হতে, ঝামা হতে অতিরিক্ত বিশেষ্য প্রয়োগে

কি করে কি ভাবে  

আগুন নিভে গেলো ।


দ্বারকার পাক ধান এই দিকে পাখি খেয়ে যায়

পিপড়েতে খেয়ে যায় তার লাভের গুড়

কয়লা হয়ে যাবার আগে ভাবো কতোটা আগুন

আর কতোটা মাটি নিয়ে এই অনুপাত

তোমরা ভেবেছো বিপ্লব, হয়তো বিপ্লব

এই রকম পুড়ে যাচ্ছে প্রতিটা শহর ।


লঘুতর হয়ে ওঠার আগে একবার ভাবো 

কেমন আগুন আর কেমন অনুতাপ 

আগস্ট পেরিয়ে আবার আগস্ট এসে গেলো

মাটি তবু রয়ে গেলো মাটি

গাঁ তবু রয়ে গেলো গাঁ

দাউ দাউ আগুনে পুড়ে 

শুধু ইটগুলো পরিপক্ক ইট হলো না ।



ইট -৯

এই সুউচ্চ দ্বারকা, পরিসর থেকে বহুতল দেখি

দেখি আরো কতো উচ্চে ওঠা যায় 

প্রাণ থেকে, প্রাণী থেকে উচ্চে অধিক ।


এই সজ্জিত শহরে আলোয় মোড়া সড়ক

ছুটেছো তীরবেগে টয়োটা সিডান তুমিও,

অতিক্রম করে যাই,  আমি হুন্ডাই ।


উচ্চে আছি তাই ভেবেছি এটাই উড়ান 

অথচ জমিতে বৃক্ষের দ্যাখো উড়ান লাগে না। 

লাগে না আকাশ পাতাল

আর এই অচিন্তপুরে যখন ডেকে উঠেছে ছাতিমদুপুর , 

সৌরভে ফুটে উঠেছে হলুদ অমলতাস 

গাছ তার ডালপালা শহ ডানা ভাসায় কি ভাসায় না 

একথা একমাত্র পাখিরাই জানে ।


পাখিরাই বলছে এই কথা, 

শোন হে কবি

সমস্ত ইট নয় জেনো পোড়া ইট, 

শহরময় নয় নিশ্চিত আগুন শহর 

শিশ দিয়ে ডেকে ওঠে ভোরের দোয়েল ।



ইট -১০


এরপর আর কোন পর নেই 

ধনুকের ছিলা থেকে 

যে তির একবার নিক্ষেপ হয়ে যায়

তার কোন ফিরে আসা নেই ।


তাহে,  কারো নিশানা লাগুক না লাগুক

তাহে, ফসকালে ফসকালো নিশানা

আমি কি বললাম তা কেউ শুনলো কি শুনলো না

আমি কি লিখলাম কেউ পড়লো কি পড়লো না 

জেগে থাকার মতো প্রহর শেষ হয়ে আসে

চাঁদমারি মানে জ্যোস্নায় ভিজে ওঠা নয়

চাঁদকে  লক্ষ্য করে একবার ঘেমে ওঠা রাত ।


আর কিছু পোড়ানোর নেই আমার  চিতার উপরে

পৃথিবীর সমস্ত বৃক্ষ যেন আজ কাঠ কয়লা

পৃথিবীর সমস্ত মাটি আজ যেন 

পুড়ে যাওয়া ইট ।