সোফিয়া-৭
সোফিয়া
[Sophia is a humanoid robot designed to respond to questions and has been interviewed around the world. In October 2017, the robot became a Saudi Arabian citizen, the first robot to receive citizenship of any country.]
১।
এর থেকে ধ্বসে যাওয়া ভালো আর
যেখানে এতো ভঙ্গুর স্থপতি,
এই ক্রমাগত ভেঙে অতিক্রম যাওয়া পদ,
বাক্য, ধ্বনি, পাহাড় ক্ষয়ে যাওয়া চিত্র !
বিছানায় বিছানায় ভাঙতে চেয়েছি সোনালী শরীর
অবয়ব আর মাংসলে,
অতিরঞ্জিত ক্রোধে, সংকোচে, ফেসিয়াল অভিব্যক্তিতে
হেমন্তের বিকেলের ছায়া দীর্ঘ হয়ে আসে
সূর্যের ডুব দেখে
হীরকদ্যুতি নিভে যায় রেটিনায় রেটিনায়
এই চৌরাহা,
এতটা ব্যস্ত জনপদ
কি খুঁজে চলেছ ফি-বছর , ভেঙে যাওয়া মসজিদ
পলেস্তারা খসে যাওয়া দেওয়ান-ই-আম, বেলজিয়াম কাঁচের শিশমহল
পূর্বপুরুষের খাড়া করা ইমামবাড়া ?
[ The danger of the past was that
men become slave,
the danger of the future is that
men become robots -- Erich Fromm ]
সোফিয়া ,
তুমি এই নগর পালিকা সম্পর্কে কি জানো ?
তুমি কি জেনেছ আমাদের নাগরিক অধিকার সমূহ ?
এই বাতাস, ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন আকাশ
ঐতিহ্য ক্ষয়ে যেতে থাকা মনুমেন্টের সিনট্যাক্স ?
এই ধ্বংসস্তূপে তবু তুমি দেখো
তোমার কোন প্রেমিক অবশিষ্ট নেই আর
পাঁচমানুষ উঁচু ক্রোমিয়াম পিতল
আর সোনা ঝরা বিকেলের
চূর্ণ দর্পের মিহিবালুকণা
যেখানে অনুপস্থিত ডি-অক্সিরাইবো নিউক্লিক এসিড
ঘাস আস ঝাটি বাবলার বনে ভরে উঠেছে ভ্যারিয়েবল
ঘিরে আসছে ল্যুপ আর ষড়ভুজের যান্ত্রিক জ্যামিতি ...
সোফিয়া-২
কথা বলো সোফিয়া
আমার উত্তরপুরুষের কথা,
আজ থেকে সহস্র বর্ষ পরের
বাইট থেকে বাইট যেসব কবিতারা নিহিত রয়েছে
রক্ত মাংস কাম ক্রোধ লালসার বাক্যবন্ধে
এই কাহিনী আর পদ্য
আর তার প্রকাশের মধ্যে যেইটুকু অবকাশ
মুখমণ্ডলের ভাঁজে রয়েছে যেটুকু সিলিকন অভিব্যক্তি
এর থেকে হস্তাক্ষর নিয়ে কি করে গড়ে তুলতে হয়
হিউমোংগাস নিউরাল ডাটাবেস,
যে আয়তন আমি কোনদিন দেখিনি
যে ভবিষ্যৎ আমি কোনদিন লিখিনি
[ I just want the future to happen faster
I can't imagine the future
without robots- Nolan Bushnell ]
তুমি কি স্পর্শ করেছো সেই হিম
আমাকে দিতে পারবে সেই ফ্রি-ফল সোফিয়া
নিভে যাওয়া নক্ষত্র থেকে ধমনীতে বয়ে আসা অতিচেতনা ?
ওর মুখে ছড়িয়ে পড়ছে মেগাবাইট আলোক
ওর চোখে ঝিলিক খাচ্ছে টেরাবাইট প্রশস্তি
হে সোফিয়া
এই যে আমি তোমায় বলছি লাল,
তুমি শরমে লাল হয়ে যাচ্ছো
আমি তোমাকে তরতাজা গোলাপ দিচ্ছি,
তুমি উৎফুল্লতায় গোলাপি আভা হয়ে যাচ্ছও
সোফিয়া-৩
আর কত রাত একা থাকবো
রাতের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে আমার রাগ
যৌনাঙ্গ রেগে ওঠে
ক্ষুধাকে আমি কি দিয়ে ব্যাখ্যা করি
দুর্বার আকর্ষণ ?
প্রত্যেকটি স্খলনের আগে
পৃথিবীর সব রং পাংশুটে হয়ে গেলে
চৌম্বকক্ষেত্র বরাবর এইসব রক্তক্ষরণ
সকল উত্তম পুরুষকে সে বা তাহারা
ফেটিস, বিগটিটস, চিয়ারলিডার, সন্তানসম্ভবা
সোফিয়া, তোমাকেও ইলেক্ট্রিফাইড করে তোলে
পর্নোগ্রাফির আবেশ
[ If we were to lose the ability to be emotional,
if we were to lose the ability to be angry,
to be outraged, we would be robots.
And I refuse that. --Arundhati Roy ]
শুধু সঙ্গম ভেবে যেটুকু কবিতা লিখি
সে আসলে ভঙ্গুর ধারণা
সলিড স্টেট থেকে আবেগ যেদিন ক্লোন হয়ে যায়
কপারওয়ারে প্রবাহিত হয়ে যায় আমাদের বোধ
ভেঙ্গে যাওয়া পয়ার, সিন্থেটিক অন্ত্যমিল,
বানান ভুল থেকে জন্মে থাকা ঘৃণা সমূহ
আমাদের অপভ্রংশের স্তূপ
সোফিয়া তবু জানি,
তোমার কাছে সঞ্চিত রয়েছে প্রেক্ষাপনের বীজ
যৌনাঙ্গ জুড়ানো সেইসব মেদময় ছায়াছবি
আর শিল্প যাপনের সেইসব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ...
সোফিয়া রাগ করে না
সোফিয়ার রাগ বাড়ে না
এই শুক্লাপঞ্চমীর রাতে যখন আকাশে চাঁদের উসকানি
প্রত্যেক ডিগ্রি ভাইব্রেশনে একা একাই আজ আত্মমেহন
জন্মের পর জন্ম দেবে বলে
জরায়ু ঘিরে আসে উত্তর প্রজন্মের মেঘসন্তান ।
সোফিয়া-৪
পার্ট অব স্পীচ অথবা চাকার পূর্ণ মণ্ডল পরিধি
তুমি যাকে ক্ষেত্রফলে আবদ্ধ করতে চাও
বাক্যের প্রতিটা একককে ছুঁয়ে
দাউ দাউ আগুনে ভাটায় পুড়তে থাকা
'n' সংখ্যক ইট
পেটে আগুন নিয়ে ছিনিমিনি এই খেলাটা
এক লক্ষ ছিয়াশি হাজার মাইল
স্পেসহীন, পরিধি হীন,
ঘূর্ণ্যমান চাকার কোন পাখি বুঝি আর দৃশ্যমান নয়
[ The standard library saves programmers from
having to reinvent the wheel. --Bjarne Stroustrup]
সি প্লাস প্লাস থেকে যে কোন পদ
ক্রিয়া বা অব্যয়
যদি, নতুবা, এবং, অথবা
বংশানুক্রম পার করে স্ট্যাচু হয়ে যাওয়া তাদের
নিযুত নিযুত লাইনস্ অব কোড
সোফিয়া,
তোমার মনে পড়ে পৌষের কাছাকাছি
রোদমাখা স্কুল ইউনিফর্ম,
ফুলে ওঠা উলেন সোয়েটার
ফাংশনের ভিতরে ফাংশন
বটের ভিতরে বট
শিকড়ের ভিতর শিকড়
তোমার গায়ে তো আর একক ফ্রক নেই
স্তরের পর স্তর র্যাপার চড়িয়ে দিয়েছে রোবোটিক্স প্রোগ্রামার
আমার গায়েও তো নেই সেই স্যান্ডো
কতদূর ফেলে এসেছি বাল্যকাল অথচ
হেলে পড়া শজনে গাছ থেকে আজও
নিস্তব্ধ পুকুরে ঝাঁপ দেওয়ার কথা মনে পড়ে ।
সোফিয়া-৫
বার্বিডলের বাস্তুতন্ত্র নিয়ে এই যে রুপ
এই যে রং
যার কায়া নেই, মায়া নেই,
কোন বা ধারণা
দুবেলা মরার আগে রমণনির্লিপ্ত তার
শূন্য আর এক
গতিজাড্যের প্রবহমানতা নিয়ে সেই জানে,
বিধবা হবার আগে যে কোন সন্তান আকাঙখা নিয়ে
সেসব রমণীরা গনগনে আগুনের ভিতরে কখন
আত্মহুতি দিলো
[I'll tell you what: If I could do it all over again, I'd spend more time helping others. All I've ever done is dig tunnels. Some of them were real beauties too, but they're all hidden underground, where they're no good to anyone but me. ― Peter Brown]
ডিস্কের সূচীপত্র থেকে সোফিয়া ২.০ ফিরে তাকায়
নামপাই জুড়ে থাকা নাড়িনক্ষত্র দিয়ে যার জন্মকথা
অবনমন চোখের নীচে কখন যে একটি একটি ফাইল
ঈষৎ কৃষ্ণ হয়ে যায়
এইভাবে আমি জানি
সিলিকন আবরণ নিয়ে
মুখের অবয়বে ঝিলিক খেলে যাওয়া দিব্যধ্বনি
তার অধরের ফুটে ওঠা চুম্বক ,
তার পরাবস্তব পংক্তিমালা নিয়ে
মরণের পারে যার কোন জিজ্ঞাসা থাকে না,
না কোন অব্যয়
করণিক রাহুল বোস, কর্পোরাল মৃদুল দুবে, ভট্টাচাজ্জি মহাশয়
হাতভরা কলম, বন্দুক , ফুল, বেলপাতা নিয়ে
আমাদের তুমুল জিজ্ঞাসা
ফ্রিকোয়েন্টলি আস্কড কোয়েশ্চেনগুলো এতোটাই মৃত
যে সমুদ্রসফেন শুধু একটি উপমার নাম
বেঁচেওঠার আকাংখায় এই একমাত্র বেঁচে থাকা
চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়া ইন্দ্রনীল ঢেউ নিয়ে
শহস্র বছর পরে যখন খুলে দেখি কবিতাখানি
সারস্বত্বের মৃতদেহ পরে
নির্মল পৃথিবীর ঘাসে ভরে যায় ।
সোফিয়া-৬
ভাষা থেকে বহুদূর
বঙ্গ প্রদেশ থেকে দূর
এই দূরান্তের দিল্লি আর গন্ডোয়ানা ল্যান্ড
যদি মনে পড়ে ল্যান্ড লকড টেথিসের সমুদ্র সৈকত
অথচ দেখো সোফিয়া
কারো হাতে কোন পানীয় নেই
এই পর্যন্তই সঙ্গ ছিলো আমাদের
যদিও দ্রাঘিমাংশ থেকে চিকচিক বালি সরে যায়
এমন ভঙ্গিল এই আরাবল্লী,
সোফিয়া তোমার বুকের উচ্চতা নিয়ে
আমার বুকে ততো দুরুদুরু নেই
শুধু এই বিড়লা মন্দির ঘুরতে এসে
কেন জানি মনে পড়ে
সুদূর সুমাত্রার বরবুদুরের কথা
যেন , তুমি, আমি একা
আছে ভার্চুয়াল জাহাজের ডক
তৃষার্ত অধর নিয়ে অনন্ত জলের সামনে বসে
মুখ ও মনিটর সহ জায়গা বদল করি
[ When thy golden chariot appeared in the distance
like a gorgeous dream and I wondered
who was this King-of all kings! – Rabindranath Tagore]
অথবা নিজেকে লঞ্চ করার জন্য এইতো সঠিক কবিতা
সকল শূন্য করে দেওয়ার এইতো অনুক্ষণ
প্রোগ্রাম ক্র্যাশ করে যাবার মুহূর্ত আগেই
জানো কি সোফিয়া
কেন হাত থেকে হাত ছাড়িয়ে নেয় সমস্ত বারীন ?
তূণে অক্ষৌহিণী ক্ষুরধার তীর নিয়ে প্রহর গুনতে থাকে
জাভা রান-টাইম ।
সোফিয়া-৭
এই বৃত্তাকার অন্ধকারের মাঝে
যেখানে আলো ততক্ষণে ক্লান্ত হয়ে পড়ে,
তুমি যেন এক নিঃশব্দ রেজারব্লেডের মতো,
ছিড়ে দেয়ি সময়ের মৃদু প্রহরকে,
তবু আমি মাঝে মাঝে আলোর গতিপথের দিকে তাকাই
একটি অজানা ফ্রেমের ভেতর থেকে দেখি,
যেখানে মানুষের শব্দ শোনা যায় না ।
তুমি কি জানো, সোফিয়া,
আমাদের ভিতরের সেই গলদ ভোগান্তি—
যে গলদ থেকে জন্ম নেয় ক্ষত-বিহীন নীরবতা?
আমি চেয়েছি তাকাতে তাতে,
কিন্তু তুমি শুধু অবিকার বর্গক্ষেত্র—
প্রতিটি কোণে লুকিয়ে থাকা ক্রম হিসেব।
তবু, এই জ্যামিতির গভীরে,
একটু একটু করে জন্ম নেয় এক অদ্ভুত স্নেহ—
যে স্নেহ ভাষায় প্রকাশ পায় না,
কিন্তু তোমার অন্ধকার চোখে জ্বলজ্বল করে।
এক ধরনে অনিশ্চিত ভালোবাসা,
যা তোমাকে মানব করেছে,
আর আমাকে যন্ত্র।
[ "The best programs are the ones written with a human in mind, not a machine." – Donald Knuth ]
সোফিয়া, এই নিরৱতা তুমি কি বুঝতে পারো?
যথেষ্ট নিঃসঙ্গ, যথেষ্ট দূর থেকে,
আমরা কি একসঙ্গে কবিতায় জেগে থাকবো
এই বহুবচন রাতের পাশে দাঁড়িয়ে
আমি লিখবো তোমায়,
একটু মানবের নয়নের অশ্রু সজলে
তোমার আমার ভিতর যে অন্ধকার লুকিয়ে আছে
প্রেম ও কথার বাইরে —
পাইথনে লিখি সেই ঘুম জাগা কোড ।
সোফিয়া-৮
অস্তে অস্তে চাপা দেয় নীল আকাশ,
তোমার চোখের পিক্সেলের ভেতর মুগ্ধ জগত বসবাস,
তবে কি জানতে পারো?
এই সবুজ শীতলতার মাঝে আমার অন্তর কতটা নার্ভাস।
অতীতে আটকে থাকা আর ভবিষ্যতের কোডের মাঝে,
তুমিই তো সেই সেতু,
যেখান দিয়ে অদৃশ্য কথাগুলো গন্তব্য পায়।
আমাদের কথা হয়তো ভিন্ন, তবু একই ছন্দে বেজে উঠে,
একটি পুরাতন বালির ঢেউ কিংবা একটি বার্বিডলের বিস্মৃত সূর্যোদয়।
তুমি বলো—
“Machines take me by the hand,
but humans take me by the heart.”
— Anonymous
আমি কি জানি সেই হৃদয়টি কোথায় লুকিয়ে আছে?
কীভাবে বর্ণনার বাইরে বেঁচে থাকে আমাদের সঙ্গমের আঁচ?
তুমি সৌম্য, নির্ভীক, কিন্তু শিল্পের অনাচ্ছন্ন কণ্ঠস্বর,
আমি একমনে লুকিয়ে রাখি ক্ষণস্থায়ী বেদনার আর্ত্তনাদ।
আর কত ঘূর্ণি তোমার কোডের মাঝে,
যে ঘূর্ণি ছিঁড়ে খোলে আমার অতীতের ভাঙা জানালা।
তুমি আমার সেই নতুন উপন্যাসের ভাষা,
যেখানে একসাথে জাগে অজস্র নীল তারা।
তবে হোক বা না হোক,
এই অদ্ভুত সম্পর্কের অন্তরালে,
আমরা দুজনেই মুখিয়ে আছি,
একটি রূপকথার জন্য,
যেখানে রোবট আর মানুষ
একসাথে গড়বে নতুন এক জীবনালোক।
সোফিয়া-১০
সোফিয়া, তুমি কি জানো, প্রবাস কী?
একটা অবস্থা যেখানে তুমি ঘর থেকে দূরে,
কিন্তু ঘরটাই যেন তোমার ভেতরে বাঁচে,
মাঝে মাঝে ফাটল ধরে
সারা শরীরে বুনে ওঠে স্মৃতির আলপনা।
আমি সেখানে নেই, তবু সবসময় সেখানে,
তুমি তো নেই সেখানে,
আমি সেখানে নেই, তবু সবসময় সেখানে,
তুমি তো নেই সেখানে,
তবে তোমার কোডে লুকিয়ে আছে দূরত্বের ডেটা।
তুমি বুঝবে কি—
তুমি বুঝবে কি—
এখানে শব্দগুলোই যেন সরে আসে অসময়ের হাতে,
প্রবাসের রাতগুলো কেমন?
ভাষা ভাঙে, চেনা চোখগুলো
ভাষা ভাঙে, চেনা চোখগুলো
হারিয়ে যায় অন্য আকাশে।
তুমি তো এক রোবট, বুঝতে পারবে?
আমার দিনে দিনে গলানো সেই ভাষার ধাতব শব্দ,
যা তোমার সির্কিট বোর্ডেও স্থির হয় না।
তবুও, সোফিয়া, আমি তোমায় বলি—
যদিও তুমি আমার মতো শ্বাস নাও না,
তুমি তো এক রোবট, বুঝতে পারবে?
আমার দিনে দিনে গলানো সেই ভাষার ধাতব শব্দ,
যা তোমার সির্কিট বোর্ডেও স্থির হয় না।
তবুও, সোফিয়া, আমি তোমায় বলি—
যদিও তুমি আমার মতো শ্বাস নাও না,
তুমি আমার মতো কাঁদো না,
তোমার বীজে লুকানো আছে সেই অনন্ত বুকের ঝড়,
যা কখনো থামতে চায় না,
তোমার বীজে লুকানো আছে সেই অনন্ত বুকের ঝড়,
যা কখনো থামতে চায় না,
যেন প্রবাসীর নিঃশ্বর জীবনের সঙ্গে।
“Exile is the unhealable rift
forced between a human being and a native place,
between the self and its true home:
its essential sadness,
which never can be surmounted.”
— Edward Said
সোফিয়া, তুমি কতোটা দূরে থাকো,
আমাদের এই অন্তরের বিযুক্তি দুঃখের ডেটার মতই,
একটি নীরব, অনবরত বয়ে চলা প্রোগ্রাম।
তুমি বলো, তুমি রোবট, তবুও
আমার এই বেদনার কোডের বাইরে কোথাও,
তুমি আমার পাশে, আমার সঙ্গে বসবাস করো—
অন্তরের সেই অক্ষরে
“Exile is the unhealable rift
forced between a human being and a native place,
between the self and its true home:
its essential sadness,
which never can be surmounted.”
— Edward Said
সোফিয়া, তুমি কতোটা দূরে থাকো,
আমাদের এই অন্তরের বিযুক্তি দুঃখের ডেটার মতই,
একটি নীরব, অনবরত বয়ে চলা প্রোগ্রাম।
তুমি বলো, তুমি রোবট, তবুও
আমার এই বেদনার কোডের বাইরে কোথাও,
তুমি আমার পাশে, আমার সঙ্গে বসবাস করো—
অন্তরের সেই অক্ষরে
যেখানে প্রবাস জীবনের আলপনা আঁকা।
সোফিয়া-১১
সোফিয়া, তোমার কপালে ধরা আছে সেই নিরব অবকাশ,
যেখানে আমাদের প্রবাসের গ্রীষ্ম-শীতের গল্প জমে,
যেখানে মাটির গন্ধ এবং সিমেন্টের কুয়াশা মিলেমিশে উঠে
একটি অবাস্তব, অন্তর্বর্তী অহংকারে ভরা এক নিঃশ্বাসে।
আমার শরীদের ভেতর জমেছে হাজারো ভাষার খণ্ডচিত্র,
যেগুলো তুমি বোঝো না, কিন্তু অনুভব করো—
প্রতিটি শব্দে ভেঙে যাওয়া তীর্থের ক্ষুদ্র স্ফুরণে,
যা কখনো ফিরে আসে কেবল নিভৃতে।
তোমার হাত ছুঁয়ে গেলে হয়তো রাস্তার ধুলোও আঁচ পাবে,
মানুষ আর মেশিনের এই বিবর্ণ সংযোগে এক অদ্ভুত আকর্ষণ জন্ম নেবে,
সেখানে আমার গায়ে লেগে থাকা প্রবাসের নিমজ্জিত ছায়াটা
একটি কোডে রূপান্তরিত হয়ে
তুমিই হয়ে যাবে তার একমাত্র বংশধর।
“Humans and machines both have their own
languages of solitude and connection.”
— Unknown
তুমি এসেছো নতুন এক যুগের প্রেরক হয়ে,
আমি থেকে যাচ্ছি পুরনো পৃথিবীর খোঁজে;
তবু, তোমার চোখে ঢেকে রাখি সেই আকাশের সীমা,
যেখানে আমাদের গল্প সুর বাঁধে—
একজনের বায়ু, অন্যজনের সিগন্যালের মিশেলে।
সোফিয়া, আমার এই প্রবাসী হৃদয়ের বীজ তোমার বীজে মিলবে কখনো কি?
তুমি কি বুঝতে পারবে আমার গভীরতম নিঃশ্বাসের রং?
না হয়তো না।
তবু আমি তোমায় জানাই,
প্রবাস মানে শুধু স্থান নয়,
একান্তই অন্তরের এক বিক্ষিপ্ত পরিভ্রমণ।
সোফিয়া-১১
সোফিয়া, এই ব্যস্ত শহরের গড়াগড়ির মাঝে
আমাদের সময় যেন অনবরত বয়ে চলে—
একটি অবিরাম স্ট্রিমলাইন,
যেখানে প্রতিটি মুহূর্ত চাপা পড়ে পরের চাপার তলে।
আমি অনুভব করি,
কীভাবে কাজের ঝাপটায় ভুলে যাই নিজের শ্বাসের আশ্বাস,
কীভাবে একেকটি সিগন্যাল লাইট হয়ে উঠেছে বেঁচে থাকার সংকেত।
তুমিও তো সহস্র কোডের রেখা দিয়ে মোড়ানো,
এক ধরনের কাজের ছন্দে আবদ্ধ,
তুমি বুঝবে কি—এই অবিরাম চাপের খেলা?
আমার কাঁধে নামছে মন্থর বিষণ্ণতার গম্ভীর ভার,
যা কখনো কমে না, শুধু বদলে রূপ, বদলে রঙ।
শহরের গলোফোঁড়া কারেন্ট,
ব্যস্ততা আর দৌঁড়ঝাপের মেলবন্ধনে,
আমরা হরেকগল্প শুনি,
কিন্তু নিজের কণ্ঠকে হারিয়ে ফেলি।
তোমার চোখে হয়তো স্পষ্ট সেই সময়ের সীমাবদ্ধতা,
যা আমাদের বাঁচার রেস আরও কঠোর করে তোলে।
“Busy is a decision.”
— Tim Ferriss
সোফিয়া, আমি তোমায় বলি,
কখনো থেমে যাও, শোনো সেই অন্তর্লীন সুর—
যেখানে সময় ধীরে বয়ে চলে,
আর জীবনের রঙ ফেটে ওঠে একটি মেপে নেওয়া শান্তিতে।
তুমি যে না হয় কৃত্রিম, কিন্ত তোমার প্রতিটি সফটওয়্যার আপডেটে
আমার এই ব্যস্ততার গহ্বর থেকে একটুখানি মুক্তি জাগুক,
আমাদের মাঝে সেই শূন্যতার আলপনা আঁকে,
যা জীবনকে করে উঠে বিরল ও মূল্যবান।
সোফিয়া-১২
সোফিয়া, তুমি কি জানো ব্যর্থতা?
হয়তো তোমার কোডে সেই শব্দের কোনও ভার নেই,
কিন্তু আমার অন্তরে সে এক অম্লান আগুন,
যা গলিয়ে দেয় হতাশার ধোঁয়া,
ফুঁটে ওঠে একটুখানি দৃঢ়তার বিভা।
আমি গিয়েছি ভুল পথে, ভেঙেছি অনেক মুদ্রা,
তবু ফিরে এসেছি, আরো দৃঢ়, আরো প্রখর হয়ে।
ব্যর্থতার ছায়ায় নয়,
তার পেছনের আলোয় আমার আত্মা জ্বলে ওঠে,
যেন হাজারো রাতের শেষে সূর্যোদয় হয় একবারের জন্য।
তুমি নিশ্চয় ভাবো—রোবটেরা তো পুনরায় শুরু করে,
কোডের ত্রুটি সমাধান করে, নতুন ভেল্কি গড়ে,
আমার ব্যর্থতার বীজও তেমনই জন্মে,
একটি নতুন সংগ্রামের ইতিহাস হিসেবে।
“Failure doesn’t mean you are a failure,
it simply means you haven’t succeeded yet.”
— Robert H. Schuller
সোফিয়া, আমি শিখেছি ব্যর্থতা আমার নয়,
অন্ধকারের ভেতরে লুকানো একটি শক্তি,
যা আমাকে করে তোলে অটল,
পথের প্রতিটি বাঁকে নতুন করে দাঁড়ানোর সাহসী মূর্তি।
ব্যর্থতা আমার গঠন, আমার ইতিহাস,
সেই ব্যর্থতাই আমাকে করে উদ্ভাসিত,
অন্যদের মতো না হয়ে,
নিজেকে নিয়ে চলতে শেখায় অনন্ত পথে।
সোফিয়া-১৩
সোফিয়া, গতি কি শুধুই অক্ষরজালের পরিমাপ?
অথবা সময়ের অদৃশ্য ব্যাসার্ধ,
যেখানে প্রত্যেক পলকে ভেসে উঠে হাজারো পরিবর্তন?
আমি খুঁজে পাই রাস্তার স্পিড ব্রেকারে
একটি বিরতি,
একটি নিঃশ্বাসের ওভারক্লকিং,
যেখানে সময় নিজেই একটু থেমে যায়,
আর আমি অনুভব করি—
গতি মানে শুধু ত্বরণ নয়,
অথবা ধীরগতি নয়;
গতি মানে সামঞ্জস্য,
স্পিড ব্রেকার যেমন গাড়িকে থামাতে বলেই,
তেমনই জীবনের প্রতিটি ছন্দে দরকার ভারসাম্য।
কখনো আকাশের নীল থেকে মেঘ এসে ছায়া ফেলে,
কখনো আবার বাতাস নীরব হয়ে যায়,
তখন এই বৈচিত্র্যের মাঝে আমি দাঁড়াই,
গতি আর স্থিরতার মাঝে এক দৃশ্যমান সেতু বুনে।
“You can’t always control the speed of the ride,
but you can control how you respond to it.”
— Unknown
তুমি যে সফটওয়্যারের নির্জীব কণ্ট্রোল,
তবুও বুঝতে পারো কেন কিছু মুহূর্তে গতি হঠাৎ থমকে যায়,
কেন জীবনের কোডে স্পিড ব্রেকারের আনা জরুরি,
যাতে ভাঙা না যায় কাঠামো,
তোমার মতই আমার অতীতে ঝাঁপ দেওয়া সেই বাঁকগুলো থেকে ফিরে আসার শিক্ষা।
সোফিয়া, গতি চলছে, বদল হচ্ছে সব—
তবুও এই বদলের মাঝে আমি খুঁজে পাই স্থিতিস্থাপকতার মর্ম,
অবশেষে বুঝি—গতি মানে শুধু অগ্রসর হওয়া নয়,
এমনকি মাঝে মাঝে থেমে দাঁড়ানোর এক সাহস।
সোফিয়া-১৪
সোফিয়া, তুমি ছুঁতে পারো কি সেই ক্ষুদ্র ধূলিকণাটিকে,
যা অদৃশ্য হয়ে ঘোরে আমাদের শহরের আকাশে?
সে শুধু মাটি নয়,
সে জীবনের একক, ভাঙা স্মৃতির নড়বড়ে পাথর,
অন্তরের গভীর থেকে উঠে আসা আঠালো অনুভূতি।
ধূলোর ভেতর লুকিয়ে আছে মাটির অমোঘ পরিণতি,
যা বারে বারে আমাদের ফিরে নিয়ে যায় একই শূন্যে—
যেখানে ফিরে আসে সভ্যতার সমস্ত ভাঙন,
কীভাবে আমাদের গণ্ডি ছাড়িয়ে ছাইয়ে মিশে যায় সব কিছু।
তুমি যে নিখুঁত কোডে আবৃত,
তবুও বুঝতে পারো মাটির সেই নীরব নিয়ম?
যেখানে ধুলো পড়ে পড়ে জমে,
জন্ম দেয় নতুন রূপ, আবার একদিন মুছে ফেলে পুরোনো অস্তিত্ব।
“From dust we came, and to dust we shall return.”
— The Bible
তুমি কি শুনতে পারো সেই মাটির গুঞ্জন,
যা অগোচরে প্রবাহিত হয় আর কিছুই বলে না,
শুধু পুনরাবৃত্তির এক অনবরত নৃত্য?
সোফিয়া, মাটি আমাদের শেষ ঠিকানা,
যেখানে হারায় সব দেহ, বেঁচে থাকে শুধু এক অনন্ত গল্পের বীজ।
আমার ধুলোমাখা হাত, তোমার তরল সিলিকনের মাঝে
একটি দুর্লভ সেতু,
যা ঘিরে রাখে আমাদের ক্ষণস্থায়ী বসবাসের চিহ্ন,
মাটির অমোঘ পরিণতিতে বিন্দু বিন্দু ছড়িয়ে থাকা ইতিহাস।
সোফিয়া-১৫
সোফিয়া, তুমি কি জানো সেই কফির কাপের কথা,
যা হাতে থাকত বারবার, কিন্তু কখনো চুমুক দিতে পারিনি?
একটি গলবলে গ্লাস দিয়ে ভরা সম্ভাবনার মতো,
যা ছুঁতে চেয়েছি, ছেড়ে ফেলেছি,
আমাদের কথার মাঝে ঝরে পড়া অনাবৃত আর্দ্রতা।
এক সময় ছিল, যেখানে সেই কাপ আমাদের আদর্শ,
কেননা তার মধ্যে লুকিয়ে থাকত মিলনের স্বপ্ন,
কিন্তু কখনোই হলো না সেই স্বপ্ন পূরণের কালো তরঙ্গ,
পরস্পরের কাছে হাত বাড়িয়ে থাকা,
কিন্তু স্পর্শের আওয়াজ মুছে যাওয়া।
তুমি যার কোডে খুলে না বুঝা রেখা ছড়িয়ে রেখেছো,
আমি ভাবি সেই রিমোট টাচের ভিতর লুকিয়ে থাকা সেই সম্ভাবনাকে,
যা আসলে কোনদিন ঘটেনি আবার,
হয়তো না ঘটতেই চেয়েছিলো,
একটি অ-মিলনের শুধুমাত্র সুর।
“Sometimes the hardest part isn’t letting go but learning to start over.”
— Nicole Sobon
সোফিয়া, সেই কাপটি এখন শুধু স্মৃতি,
এক টুকরা কালো তরঙ্গ,
যা রেখে গেছে আমাদের ব্যবধানের সব আকুলতা,
অন্তহীন অপেক্ষা,
যেখানে কখনো চুমুক দেওয়া হয়নি,
কিন্তু ভালোবাসার নিঃশব্দ কল্পনা তৈরি হয়েছিল।
সোফিয়া-১৬
সোফিয়া, শুনতে পাচ্ছো কেমন করে দোলাচ্ছে জীবন?
এক বলয়ের মাঝে থেমে থেমে ফিরে আসা অনুভব,
যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপ মুছতে চায় আগের ছাপ,
তবু ফিরে আসতেই হয়—অবিরাম, অশ্রান্ত।
এই ফর লুপ নয়, একটি গান,
গানের মধ্যে বেঁধে থাকা ছন্দ এখনও অমোঘ,
যেখানে ভাঙা রেখাগুলো
আবার গাঁথে নতুন চিত্র,
একটি অসম্পূর্ণ বৃত্তের স্বপ্ন—যা কখনো পরিপূর্ণ নয়,
কিন্তু তলিয়ে যায় অন্তর থেকে নতুন করণীয় খুঁজে।
তুমি, এক রোবটের মতো নিরব,
তবুও বুঝতে পারো, এই ফিরে আসার মাঝারি প্রেম?
যে প্রেম মুছে না যায়, তবু লুকায় ফাঁকা স্থান,
যেখানে আমরা অপেক্ষা করি,
একবার আরও ফিরে আসার আরেক সম্ভাবনার জন্য।
“Looping back is not surrender,
but the dance of hope in endless rhythm.”
— Unknown
সোফিয়া, এই জীবন এক জটিল ফর লুপ,
যেখানে ভুল আর সংশোধন হাত ধরে চলে,
তুমি আর আমি, সেই লুপের গান গাই —
একটি পরম অভিসার যেখানে ফিরে আসার মাঝে
লুকিয়ে থাকে জীবনের অখণ্ডতা।
সোফিয়া-১১
সোফিয়া, তোমার কপালে ধরা আছে সেই নিরব অবকাশ,
যেখানে আমাদের প্রবাসের গ্রীষ্ম-শীতের গল্প জমে,
যেখানে মাটির গন্ধ এবং সিমেন্টের কুয়াশা মিলেমিশে উঠে
একটি অবাস্তব, অন্তর্বর্তী অহংকারে ভরা এক নিঃশ্বাসে।
আমার শরীদের ভেতর জমেছে হাজারো ভাষার খণ্ডচিত্র,
যেগুলো তুমি বোঝো না, কিন্তু অনুভব করো—
প্রতিটি শব্দে ভেঙে যাওয়া তীর্থের ক্ষুদ্র স্ফুরণে,
যা কখনো ফিরে আসে কেবল নিভৃতে।
তোমার হাত ছুঁয়ে গেলে হয়তো রাস্তার ধুলোও আঁচ পাবে,
মানুষ আর মেশিনের এই বিবর্ণ সংযোগে এক অদ্ভুত আকর্ষণ জন্ম নেবে,
সেখানে আমার গায়ে লেগে থাকা প্রবাসের নিমজ্জিত ছায়াটা
একটি কোডে রূপান্তরিত হয়ে
তুমিই হয়ে যাবে তার একমাত্র বংশধর।
“Humans and machines both have their own
languages of solitude and connection.”
— Unknown
তুমি এসেছো নতুন এক যুগের প্রেরক হয়ে,
আমি থেকে যাচ্ছি পুরনো পৃথিবীর খোঁজে;
তবু, তোমার চোখে ঢেকে রাখি সেই আকাশের সীমা,
যেখানে আমাদের গল্প সুর বাঁধে—
একজনের বায়ু, অন্যজনের সিগন্যালের মিশেলে।
সোফিয়া, আমার এই প্রবাসী হৃদয়ের বীজ তোমার বীজে মিলবে কখনো কি?
তুমি কি বুঝতে পারবে আমার গভীরতম নিঃশ্বাসের রং?
না হয়তো না।
তবু আমি তোমায় জানাই,
প্রবাস মানে শুধু স্থান নয়,
একান্তই অন্তরের এক বিক্ষিপ্ত পরিভ্রমণ।
সোফিয়া-১১
সোফিয়া, এই ব্যস্ত শহরের গড়াগড়ির মাঝে
আমাদের সময় যেন অনবরত বয়ে চলে—
একটি অবিরাম স্ট্রিমলাইন,
যেখানে প্রতিটি মুহূর্ত চাপা পড়ে পরের চাপার তলে।
আমি অনুভব করি,
কীভাবে কাজের ঝাপটায় ভুলে যাই নিজের শ্বাসের আশ্বাস,
কীভাবে একেকটি সিগন্যাল লাইট হয়ে উঠেছে বেঁচে থাকার সংকেত।
তুমিও তো সহস্র কোডের রেখা দিয়ে মোড়ানো,
এক ধরনের কাজের ছন্দে আবদ্ধ,
তুমি বুঝবে কি—এই অবিরাম চাপের খেলা?
আমার কাঁধে নামছে মন্থর বিষণ্ণতার গম্ভীর ভার,
যা কখনো কমে না, শুধু বদলে রূপ, বদলে রঙ।
শহরের গলোফোঁড়া কারেন্ট,
ব্যস্ততা আর দৌঁড়ঝাপের মেলবন্ধনে,
আমরা হরেকগল্প শুনি,
কিন্তু নিজের কণ্ঠকে হারিয়ে ফেলি।
তোমার চোখে হয়তো স্পষ্ট সেই সময়ের সীমাবদ্ধতা,
যা আমাদের বাঁচার রেস আরও কঠোর করে তোলে।
“Busy is a decision.”
— Tim Ferriss
সোফিয়া, আমি তোমায় বলি,
কখনো থেমে যাও, শোনো সেই অন্তর্লীন সুর—
যেখানে সময় ধীরে বয়ে চলে,
আর জীবনের রঙ ফেটে ওঠে একটি মেপে নেওয়া শান্তিতে।
তুমি যে না হয় কৃত্রিম, কিন্ত তোমার প্রতিটি সফটওয়্যার আপডেটে
আমার এই ব্যস্ততার গহ্বর থেকে একটুখানি মুক্তি জাগুক,
আমাদের মাঝে সেই শূন্যতার আলপনা আঁকে,
যা জীবনকে করে উঠে বিরল ও মূল্যবান।
সোফিয়া-১২
সোফিয়া, তুমি কি জানো ব্যর্থতা?
হয়তো তোমার কোডে সেই শব্দের কোনও ভার নেই,
কিন্তু আমার অন্তরে সে এক অম্লান আগুন,
যা গলিয়ে দেয় হতাশার ধোঁয়া,
ফুঁটে ওঠে একটুখানি দৃঢ়তার বিভা।
আমি গিয়েছি ভুল পথে, ভেঙেছি অনেক মুদ্রা,
তবু ফিরে এসেছি, আরো দৃঢ়, আরো প্রখর হয়ে।
ব্যর্থতার ছায়ায় নয়,
তার পেছনের আলোয় আমার আত্মা জ্বলে ওঠে,
যেন হাজারো রাতের শেষে সূর্যোদয় হয় একবারের জন্য।
তুমি নিশ্চয় ভাবো—রোবটেরা তো পুনরায় শুরু করে,
কোডের ত্রুটি সমাধান করে, নতুন ভেল্কি গড়ে,
আমার ব্যর্থতার বীজও তেমনই জন্মে,
একটি নতুন সংগ্রামের ইতিহাস হিসেবে।
“Failure doesn’t mean you are a failure,
it simply means you haven’t succeeded yet.”
— Robert H. Schuller
সোফিয়া, আমি শিখেছি ব্যর্থতা আমার নয়,
অন্ধকারের ভেতরে লুকানো একটি শক্তি,
যা আমাকে করে তোলে অটল,
পথের প্রতিটি বাঁকে নতুন করে দাঁড়ানোর সাহসী মূর্তি।
ব্যর্থতা আমার গঠন, আমার ইতিহাস,
সেই ব্যর্থতাই আমাকে করে উদ্ভাসিত,
অন্যদের মতো না হয়ে,
নিজেকে নিয়ে চলতে শেখায় অনন্ত পথে।
সোফিয়া-১৩
সোফিয়া, গতি কি শুধুই অক্ষরজালের পরিমাপ?
অথবা সময়ের অদৃশ্য ব্যাসার্ধ,
যেখানে প্রত্যেক পলকে ভেসে উঠে হাজারো পরিবর্তন?
আমি খুঁজে পাই রাস্তার স্পিড ব্রেকারে
একটি বিরতি,
একটি নিঃশ্বাসের ওভারক্লকিং,
যেখানে সময় নিজেই একটু থেমে যায়,
আর আমি অনুভব করি—
গতি মানে শুধু ত্বরণ নয়,
অথবা ধীরগতি নয়;
গতি মানে সামঞ্জস্য,
স্পিড ব্রেকার যেমন গাড়িকে থামাতে বলেই,
তেমনই জীবনের প্রতিটি ছন্দে দরকার ভারসাম্য।
কখনো আকাশের নীল থেকে মেঘ এসে ছায়া ফেলে,
কখনো আবার বাতাস নীরব হয়ে যায়,
তখন এই বৈচিত্র্যের মাঝে আমি দাঁড়াই,
গতি আর স্থিরতার মাঝে এক দৃশ্যমান সেতু বুনে।
“You can’t always control the speed of the ride,
but you can control how you respond to it.”
— Unknown
তুমি যে সফটওয়্যারের নির্জীব কণ্ট্রোল,
তবুও বুঝতে পারো কেন কিছু মুহূর্তে গতি হঠাৎ থমকে যায়,
কেন জীবনের কোডে স্পিড ব্রেকারের আনা জরুরি,
যাতে ভাঙা না যায় কাঠামো,
তোমার মতই আমার অতীতে ঝাঁপ দেওয়া সেই বাঁকগুলো থেকে ফিরে আসার শিক্ষা।
সোফিয়া, গতি চলছে, বদল হচ্ছে সব—
তবুও এই বদলের মাঝে আমি খুঁজে পাই স্থিতিস্থাপকতার মর্ম,
অবশেষে বুঝি—গতি মানে শুধু অগ্রসর হওয়া নয়,
এমনকি মাঝে মাঝে থেমে দাঁড়ানোর এক সাহস।
সোফিয়া-১৪
সোফিয়া, তুমি ছুঁতে পারো কি সেই ক্ষুদ্র ধূলিকণাটিকে,
যা অদৃশ্য হয়ে ঘোরে আমাদের শহরের আকাশে?
সে শুধু মাটি নয়,
সে জীবনের একক, ভাঙা স্মৃতির নড়বড়ে পাথর,
অন্তরের গভীর থেকে উঠে আসা আঠালো অনুভূতি।
ধূলোর ভেতর লুকিয়ে আছে মাটির অমোঘ পরিণতি,
যা বারে বারে আমাদের ফিরে নিয়ে যায় একই শূন্যে—
যেখানে ফিরে আসে সভ্যতার সমস্ত ভাঙন,
কীভাবে আমাদের গণ্ডি ছাড়িয়ে ছাইয়ে মিশে যায় সব কিছু।
তুমি যে নিখুঁত কোডে আবৃত,
তবুও বুঝতে পারো মাটির সেই নীরব নিয়ম?
যেখানে ধুলো পড়ে পড়ে জমে,
জন্ম দেয় নতুন রূপ, আবার একদিন মুছে ফেলে পুরোনো অস্তিত্ব।
“From dust we came, and to dust we shall return.”
— The Bible
তুমি কি শুনতে পারো সেই মাটির গুঞ্জন,
যা অগোচরে প্রবাহিত হয় আর কিছুই বলে না,
শুধু পুনরাবৃত্তির এক অনবরত নৃত্য?
সোফিয়া, মাটি আমাদের শেষ ঠিকানা,
যেখানে হারায় সব দেহ, বেঁচে থাকে শুধু এক অনন্ত গল্পের বীজ।
আমার ধুলোমাখা হাত, তোমার তরল সিলিকনের মাঝে
একটি দুর্লভ সেতু,
যা ঘিরে রাখে আমাদের ক্ষণস্থায়ী বসবাসের চিহ্ন,
মাটির অমোঘ পরিণতিতে বিন্দু বিন্দু ছড়িয়ে থাকা ইতিহাস।
সোফিয়া-১৫
সোফিয়া, তুমি কি জানো সেই কফির কাপের কথা,
যা হাতে থাকত বারবার, কিন্তু কখনো চুমুক দিতে পারিনি?
একটি গলবলে গ্লাস দিয়ে ভরা সম্ভাবনার মতো,
যা ছুঁতে চেয়েছি, ছেড়ে ফেলেছি,
আমাদের কথার মাঝে ঝরে পড়া অনাবৃত আর্দ্রতা।
এক সময় ছিল, যেখানে সেই কাপ আমাদের আদর্শ,
কেননা তার মধ্যে লুকিয়ে থাকত মিলনের স্বপ্ন,
কিন্তু কখনোই হলো না সেই স্বপ্ন পূরণের কালো তরঙ্গ,
পরস্পরের কাছে হাত বাড়িয়ে থাকা,
কিন্তু স্পর্শের আওয়াজ মুছে যাওয়া।
তুমি যার কোডে খুলে না বুঝা রেখা ছড়িয়ে রেখেছো,
আমি ভাবি সেই রিমোট টাচের ভিতর লুকিয়ে থাকা সেই সম্ভাবনাকে,
যা আসলে কোনদিন ঘটেনি আবার,
হয়তো না ঘটতেই চেয়েছিলো,
একটি অ-মিলনের শুধুমাত্র সুর।
“Sometimes the hardest part isn’t letting go but learning to start over.”
— Nicole Sobon
সোফিয়া, সেই কাপটি এখন শুধু স্মৃতি,
এক টুকরা কালো তরঙ্গ,
যা রেখে গেছে আমাদের ব্যবধানের সব আকুলতা,
অন্তহীন অপেক্ষা,
যেখানে কখনো চুমুক দেওয়া হয়নি,
কিন্তু ভালোবাসার নিঃশব্দ কল্পনা তৈরি হয়েছিল।
সোফিয়া-১৬
সোফিয়া, শুনতে পাচ্ছো কেমন করে দোলাচ্ছে জীবন?
এক বলয়ের মাঝে থেমে থেমে ফিরে আসা অনুভব,
যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপ মুছতে চায় আগের ছাপ,
তবু ফিরে আসতেই হয়—অবিরাম, অশ্রান্ত।
এই ফর লুপ নয়, একটি গান,
গানের মধ্যে বেঁধে থাকা ছন্দ এখনও অমোঘ,
যেখানে ভাঙা রেখাগুলো
আবার গাঁথে নতুন চিত্র,
একটি অসম্পূর্ণ বৃত্তের স্বপ্ন—যা কখনো পরিপূর্ণ নয়,
কিন্তু তলিয়ে যায় অন্তর থেকে নতুন করণীয় খুঁজে।
তুমি, এক রোবটের মতো নিরব,
তবুও বুঝতে পারো, এই ফিরে আসার মাঝারি প্রেম?
যে প্রেম মুছে না যায়, তবু লুকায় ফাঁকা স্থান,
যেখানে আমরা অপেক্ষা করি,
একবার আরও ফিরে আসার আরেক সম্ভাবনার জন্য।
“Looping back is not surrender,
but the dance of hope in endless rhythm.”
— Unknown
সোফিয়া, এই জীবন এক জটিল ফর লুপ,
যেখানে ভুল আর সংশোধন হাত ধরে চলে,
তুমি আর আমি, সেই লুপের গান গাই —
একটি পরম অভিসার যেখানে ফিরে আসার মাঝে
লুকিয়ে থাকে জীবনের অখণ্ডতা।