রুট-৭


কবিতা-রুট
পীযূষকান্তি বিশ্বাস


রুট-৭

এই তো, উপচে আসা ভিড়
হাটবারের হেঁকে আসা সবজীবালা
সব্জীইইইই
মহানগরের এই হট্টোগোলের নামে এই কালকাজী,
অথচ জানেন, এই বেগুনের নাম মুর্শিদাবাদ, 
এই মোচার নাম বর্ধমান ছিলো, 
এই পুরুষ্টু আমের স্বাদে   
আপনি জানেন সন্ধ্যা হয়ে ওঠা মাত্রই বাঙালী হয়ে ওঠা 
যে কোন যৌবনের চাই একটি ক্ষুধা নিবারণ 
উদরপরিযায় নিয়ে কিভাবে হেঁটে আসা 
সহস্র মাইল, এই ভাবে কেটে গেলো 

ও কাকীমা , বারিক কেটে ঐ কী ফেলে দিলেন কড়াই এ 
উত্তপ্ত তেলে 
লবণ মরীচ হলুদে 
যেন জ্বলে উঠেছে কেউ ? 
যখন অধিক থেকে অধিকতর গরম হয়ে উঠেছে তাওয়া
এনামেলে ক্রমশ পুড়ে যাচ্ছে কালো জিরে  
যা কিছু ভোজ্য, কিংবা ভেজে তুলে নিতে চাওয়া 
তেলে ত্বকময় সুস্বাদু নিজস্ব শরীর   


রুট-৮


কী এই রেসিপি ? 
নাকি অব্যক্ত পাকে মাত্রারিক্ত ঝলসে যাওয়া ? 
এই দিল্লি শহরে ক্রমশ যখন উঠে যাচ্ছে চারতলা মঞ্জিল , 
আমরা ভুলে গেছি সেই সবুজের লাউ, 
চিংড়ির গোপন ইঙ্গিতে কবে কার নোলা খুলে গেছে, 
আপনিও ভুলে গেছেন ভিটে মাটি পুকুর
কলমির গন্ধে ভরা জলে ভেসে ওঠা রুপালী চিতল

বাজার তবু হেঁকে ওঠে বাজারের মতো, 
কাটা মৎসের মতো খাঁখাঁ গোভিন্দপুরী 
আর একটি বটির কাছে 
যেন তার প্রণয়-ভিক্ষা নিয়ে  
তবু এই তিনআনার দিনআনার দেশ 
মাপে মাপ, খাপে খাপ, বাংলা অথবা বাঁচার   
খিদে অথবা যৌনতায়
উদরে তবুও তুলে দিতে চান কিছু অসম্ভব রন্ধন 

আপনি অনায়াসে ধারালো চাক্কুতে কেমনে 
কেটে ফেলেন টিন্ডা , কুন্দ্রু , তরী , কারেলা  
ধারালো ছুরির কাছে  কিভাবে কেটে যায় লাল বিট রুট , 
যার করুণ রক্তে ডুবে যায় জাতপাত রংরেখা, 
দেশমাটি, বাঙলার সবুজ নারেঙ ।