আ
আ
আ আর প্রথম হতে পারবেন না ।
অ তার আগেই পৌঁছে গেছেন সেই ম্যাজিক ক্রমাংকে
ক্লাসের ফার্স্ট বয় না হতে পেরে
যে অনিন্দ্য ছুটে গেছিলো রেললাইন ধরে
কলেজসুন্দরী প্রতিযোগিতার প্রিলিমিনারিতে ছিটকে গিয়ে
যে দীপশিখা চোখের জলে ভেসে গেছিলো
এসব তো পর্যায় - যা ক্রমে চলে আসে,
অনিন্দ্য এখন মস্ত সিভিল ইঞ্জিনিয়ার,
দীপশিখা এখন রুপোলী পর্দার হার্টথ্রব
এই সব মানুষের জীবনে আসে, যায়
অ কে দেখে অনেক হিংসা হয়,
অ-ই প্রথম হয়েছে এই অক্ষর সজ্জায়,
আর যেহেতু সে মৌলিক
কিছুতেই আ'র বুকে আর আহা ওঠে না
কি যে একটা অস্থিরতা,
আ'র নিজের ক্রমাংকে দ্বিতীয় হওয়া, তার মাত্রা
প্রতিভা, জনপ্রিয়তা, দাম, দর , দক্ষতা
সমস্তই সেকেন্ডারি
অথচ আ প্রথম হবার দৌড়ে নিজেও কি
হারিয়ে ফেলেনি শৈশব
ইঁদুর দৌড়ে কেটে যায় নি কি তার জীবন
আমগাছ থেকে জলে ঝাঁপ না দিতে পারা
কৈশোরের আপসোস কি তাড়া করে না এখনো ?
কোথাও এক যান্ত্রিক চলনের গদ্য কু-ঝিকঝিক করে
সন্ধ্যার হস-খাস মেট্রো-স্টেশন চত্বরে অফিস ফেরত
সে যেন এক অক্ষর মাত্র
আ, এসব জেনে বুঝে একমুঠো শর্ষে হাতে নিয়ে
সিলিং ফ্যানের দিকে তাক করে
সজোরে ছুঁড়ে দেন
কালো কালো শর্ষে ছড়িয়ে পরে তার বিছানায়,
মেঝেতে, ডাইনিং টেবিলে, ল্যাপটপে
ক্রমাগত রিং বেজে যাওয়া মুঠোফোনের উপর ।