তৃতীয়ের কোন দুঃখ নেই
অতএবের কোন নেই বিষাদকথা 

ঈষৎ শুভ্র নিয়ে যে চিল নেমে আসে আকাশ থেকে 
আসন্ন বিপদ বুঝে দৌড়ে যায় যে সব ইঁদুর
এই মেঘবাদল নিয়ে তার অবকাশ কোথায়
কি হবে তার আষাঢ়ের হলুদ চৌষা নিয়ে 
যখন দ্বিতীয় চলে যায়

কি জানি - 
এটা কোন মরশুম
বেশতো হেঁটে যাচ্ছি হাটে
হেঁটে পেরিয়ে যাচ্ছি হাজার,  
তৃতীয়, চতুর্থ , হ্রস্ব-ই ,দীর্ঘ-ঈ অথবা আম
পাকা ফসল গাছ থেকে পেড়ে রেখে আসছি বাজারে

এর থেকে সহজ কবিতা আর কি হতে পারে
আর যখন বর্ষা চাইছি 
আবার মেঘ করে আসে আকাশ পাতাল 
আমি ভিজে যেতে চাইছি আগামী আশ্বিনে

বৃষ্টিফোটার অনন্তভিড়ে
আম্রপালির রোদঘাম মিশে গেছে সমস্তই জলে
তৃতীয়ের থাকে শুধু ঘরে ফেরা, সেটুকুই আম
আর যা কিছু চকমকি,আকাশ-পাতাল-বিশ্ব
ছন্দ পয়ার পদ্য ছিলো 
যমকের সহিত তা প্রথম নিয়ে যাক ...



সে কথা কখনো বলা হয়নি 
আমার নাম কখনো মহাদেবপুর ছিলো 
এই দীর্ঘ চোদ্দশো কিলোমিটার পার করে এসে 
কখন যে দিল্লি হয়ে গেছি। 
মনে পড়ে যায় ; 
ক্রমশ ক্ষীন হয়ে আসা ছোট খোকার কথা কওয়া, 
আজ দীর্ঘ ত্রিশ বছর পর 
আমার সেই হারিয়ে যাওয়া বর্ণমালা 
আর দুরন্ত গতিবেগের এন-এইচ-৮ ফের মুখোমুখি ।  

হার , জিত , দৌড় , রেস কখোনো বুঝিনি , 
আমার জানা হয়নি প্রথম হবার কোন পুরস্কার মূল্য , 
তবে এটুকুই আমার অহংকার থাক যে এতটো দীর্ঘ পথ আমি হেঁটে এলাম 
বর্ণমালার চিহ্ন চিনে চিনে ! 

বরং আমার গল্পটা হ্রস্বই ছিলো । 
আমি ভুলে গেছি সেই পুরানো প্রেমিকার  নাম । 
বিস্মৃতির অতলে চলে গেছে 
কাঁপা হাতের লেখা প্রিয় অক্ষরমালা । 

আজ লালকিলার দেওয়ালে দেওয়ালে খুঁজি তার নাম, 
ছুটে যাই কুতুবমিনার - 
যদি তার নাম লেখা পাই টেরাকোটার খাজে খাজে । 

তাকে বুঝে ওঠা এখনো ইন্দ্রিয়ের পার
নাসিকা গ্রন্থির কাছে উদ্রেক হয়ে আসা গন্ধ 
আমাকে কানে কানে বলে যায় 
কোন কিশোরী মল্লিকার নাম...

আজও পিপাসার নাম লিখতে গিয়ে 
বানান ভুল করি । 
তবু লিখি, 
লিখে চলি  সেই হ্রস্ব প্রেমকথা 
যদি কোন দিন সে লেখনি দীর্ঘ হয়ে ওঠে  । 

দীর্ঘ ঈ একটা বিশ্বাস ,
একটা শ্বাসের মত -আমি তাকে উচ্চারণ করি,
সে ঈশ্বর হয়ে ওঠে ।