সমোসা
আপনি একজন দিল্লি প্রবাসী বাঙালি কবি । প্রবাসে বসে, বাংলা কবিতা লেখেন ।
ভাষার অস্তিত্ব ও লেখকদের সংগ্রাম আপনার লেখার বিষয় বস্তু ।
সমোসা নিয়ে একটি কবিতা লিখুন । সমোসা, হলো শিঙাড়ার আর একটি রূপ, ময়দার ভিতরে আলুর পুর দিয়ে ছাপা তেলে ভেজে তোলা হয় । খেতে খুব মুচমুচে । যা উত্তর ভারতে সমোসা নামে পরিচিত ।
কিছু কবিতার উদাহরণ দেওয়া হলোঃ
উদাহরন ১)
জ্বলে পুড়ে যাওয়া ক্রমশঃ থেকে একটা রেখা ভেসে উঠলে ,
আমি সেখান থেকে সযত্নে একটা ভৌগলিক তুলে রাখি ,
পার্শক্রিয়া হেতু একটি নৈতিক অবস্থান বিরক্ত করে সর্বদা
আগাপাছতলা না ভেবে একটা হাততালি দিয়ে, হাত ঝেড়ে ফেলি ।
মানচিত্র ব্যতীত এতোটা বর্তমানকে হাড় কালো করে আজ বুঝি
বাইরে-কার ঝুরঝুরি আর ভিতরের টসটস নিয়ে এমন চাপান উতর,
ইতর চাটনি নিয়ে আমার সম্মুখে কেউ রেখেছে একটা আস্ত শিঙাড়া
আমার ভিতরে মুচড়ে ওঠা অন্ত্র বরাবর তার রূপ মহিমার আদ্যাকর্ষণ
হলুদলংকা ভুনা জিরাধনিয়াসহ কড়া পাকের পাহাড়ি আলুপুর ।
এখানেই খাস্তা ! গুরুদোয়ারের সামনে রাস্তায় উদোম দাঁড়িয়ে আছি
ভাঙ্গা চোরা কলোনির ভাঙ্গা চোরা বাংলা, আমি তার শেষ সম্রাট
রাজ্যপাট পুনরুদ্ধার হেতু অসিবদ্ধ হাতে কার মুক্তিযুদ্ধে নেমেছি ।
উদাহরন ২)
কি খাবো আর কি খাবো না, ধ্বনি ধ্বনি বহোত হলো উমাপদ
বেদম চিনি মিশিয়ে রাষ্ট্রে রাষ্ট্র, কাপে কাপ, জল মেপে মেপে তো নিলে
কার প্লেটে কি পড়লো, ঝোল গাদা, লেজা, কার প্লেটে মেদবহুল পেটি
কতো পুষ্টি কতোবড়ো তুষ্টি কেনোই বা তোমরা শূদ্র, তারপর নমোঃ
এই আলুগোল বর্ণপরিচয় নিয়ে, কখন যে আমাদের হেমন্তপুর জ্বলেপুড়ে গেলো ।
গরম কড়াইয়ে লংকামরিচ রাখো, বাঁশবনের ছায়ায় বেড়ে ওঠা আদা
আগুনে ঝলসে ঝুরঝুরে পাটায় বেটে নেওয়া সুগন্ধি চরমাগাজ
ভুলে গেছি ণত্ব, রূপসার ঘোলা জল, ভুলে গেছি ষত্ব, নুচনাকুড়ির বিল ।
আর কিছু রাঁধিনি, নুন চেখে দেখিনি, ভূগোল পড়িনি । ইছামতির ভয়াল ভাঙ্গন
কোনটা আম আর কোনটা বুনো আমড়া, বাপঠাকুরদার কৃষিজমি
ফেলে আসা রুপশাইল এই উদ্বাস্তু গ্রাম , কোন মাটিতে আমি জন্মালাম
অথচ রেখা মানে বড় হয়ে জেনেছি তা হলো ঘাটি বৌদির ডাক নাম ।
উদাহরন ৩)
সব বলা আছে ! তবু কিছু বলার থাকেনা মধু হোই হোই - আজ থাক;
বেশ তো গুছিয়ে নিয়েছো সিনেমা সিনেমা, তার অলোক জল পড়ে
এমনভাবে বিষপাত্র ঢেলে দিলে বঙ্গবন্ধু ? ঘাসপাতা চাপাতার শ্রেণী বিভাজন
দুর্বার হয়ে ওঠে ভাষামাঠ, খিলাড়িগণ জাগরূক; খেলা হবে অতএব
কবিতার খেলা লাগে, খিলখিলয়ে সমস্বরে হেসে ওঠে অক্ষরসমূহ ।
প্রতিযোগিতা থেকে ছিন্ন হয়ে, ছিটকে কবেই বেরিয়ে গেছে এই ভূমি
সিঁড়ি ভেঙে ভেঙে প্রতিটা হোঁচটে ভেঙ্গে যাচ্ছে সংজ্ঞা শিঙাড়ার
কি করে ভাঙ্গানো হয় গম, আটা ও ময়দা কি করে মেশানো ময়ান
তেলসহ জলসহ একসময় মাখামাখি গঙ্গারিডি জাতি ছিলাম আমি
পঞ্চ সহস্র ঐরাবত বাহিনীর দাপটে গ্রেট সিকান্দারকে রুখে দিয়েও
প্রতিপদে আজও কেন রক্তসহ ধমনীসহ ভেঙ্গে যাচ্ছি হৃদয়ে হৃদয় ।
উদাহরন ৪)
এইভাবে খারা জলে আলু গলে না, বুঝলে ডুয়ার্সবাসী হে শিবু মণ্ডল
পাহাড় পেরিয়ে আর একটি পাহাড় যখন অহরহ ঘাড়ে চেপে ধরে
কাগজ না দেখাতে পারলে আলু যথেষ্ট আলু নয়, নহে শিঙ্গাড়া শিঙ্গাড়া
ছন্দ ভেঙ্গে দেওয়ার আগে দেখতে হয়, আসলেই সেটা ছন্দ ছিলো কিনা
উচ্চ মানে কতো উচ্চ হবে, বর্ণ মানে কি একাই ব্যঞ্জনঅক্ষর স্বর
ভূমি মানে তুমিও তো এতকাল সিঁড়ি ভেঙে গেলে । খুঁজে পেলে পথ ?
তবুও তো পেঁচা জাগে, রাত জাগি হোয়াটসএপ, এগারোশো মাইল দূর
রিণির কোমল ত্বকে গুলাব সুগন্ধি হলে গর্ভগৃহে মতিচূর তৃষ্ণা জেগে ওঠে
শোনোরে মন রসনা, চলো আজ মুখোমুখি বসি । হিং গন্ধ দেবনাথ সুইটস
ভেবে নিই সমোসা জিনিসটা নিদারুন ট্রেন্ডিং গরমাগরম দারুণ উপাদেয়
তার মশলাপ্যাচ দুঃপাচ্য অনাঘ্রাত , ভুল বানানের দুর্বোধ্য পংক্তিমালা
ঝাঁ চকচকে আলোময় বাসন্তী বৃন্তে একযোগে কামড় বসিয়ে দিই ।
৫)
মুচমুচে হলেই ভাবি, কি নিদারুণ তার বেজে ওঠা হলো,
মাইকে আওয়াজ করে কেমন ফাটিয়ে দিলাম স্বর্গ মর্ত্য বঙ্গপ্রদেশ
সাত সমুদ্র গহীন, উত্তাল কালবৈশাখীর এক্কেবারে তের নদী পার
বাজারজাত করার আগেই ছেয়ে ফেলেছি আমাদের আধুনিক বাজার
মহল্লার রাজপথ, দুধারে তৃপ্ত গ্রাহক - দ্বিপ্রহরে সূর্য ঠিক মাথার উপর
নসরন্ধ্রে ভাজা তেলের এক মিহি আস্তরণ, জ্বলে ওঠা রসুণের ঘ্রাণ ।
জিরা ধনিয়ার চাপানউতর ভেতরে পাহাড়ি আলুর নরম পুর , আবৃত্তি দারুণ
পুড়ে যাওয়া ময়দার সঙ্গে বদলে যাওয়া আমাদের ভাষার জগৎ
হে সেন সাহেব, আর কতো উত্তরে যাবে, আধুনিক হবে কতো আধুনিক
পেটে খিদে নিয়ে বেঁচাকেনা ভার, আমাদের চলেনা স্বচ্ছ দোকানদারী
অথচ আমাদের কল, আমাদের কারখানা, শ্রম, আদরের পণ্য শিঙাড়া
উত্তরজন্মের কবি লখিন্দর বেচে ফেরে চৈত্রে সাজানো স্বর্ণাভ ত্রিভুজ ।
৬)
বাম্পার মানে, দারুন, বোলে তো হেব্বী হয়েছে , সুপার্ব প্রস্তুতপ্রনালী
বাইরে প্রহরীর মতো ময়দার কঠিন খোলসে, ভেতরে আলু-মশলার নরম পুর
তবুও ভেরেণ্ডার বেড়ে ওঠার মতো, গাছপাতা সহ মাতৃভাষার গোপন দীর্ঘশ্বাস
আলু যথেষ্ট আলু নয়, যদিও কামড় দিলে তা মুচমুচে আওয়াজ করে ওঠে
শব্দ হয়, সেই শব্দ ঠিক যথেষ্ট শব্দ নয় সুখপাঠ্য কবিতা পংক্তির মতো
ন্যালাভোলা মাঝির কণ্ঠে ভিজে ওঠে সতেঙ্গার বিলের কৃষ্ণকালো জল ।
দূরত্ব মানে কতোদূর হবে আর কোন দেশ বসবাসে হবে প্রবাস জীবন
ক্রয়বিক্রয় রহিত শেকড় মানে তুমি যেমন জেনেছো মাটি ঠিক কতোটা মাটি
কতোটা বাচনভঙ্গি নিয়ে গেছে আমাদের নারকেল কুচির থেকে পুদিনার দিকে
সুগন্ধ সেই ভাবে বোঝা হলো না, সেইভাবে স্বাদ, বোধগম্যতা নিয়ে শিঙাড়া ভাষা
তুমি কি চিনেছো আমায়, জেনে কি হবে যে অক্ষর হারিয়ে গেছে ভীড়ের সদরে
ভিন্নতর অনুচ্ছেদ নয়, পংক্তি কথামালা নয়, আমাদের দেখা হয় নিজস্ব সাক্ষরে ।