বাদল

 বাদল


পীযূষকান্তি বিশ্বাসের কবিতা

বি-১, এইচ-৩/৮১, মহাবীর এনক্লেভ

নিউ দিল্লি-১১০০৪৫

 

 

বাদল-১

 

এই ছুট মানে ছুটকার, দলছাড়া বাদল

তার মসৃণ গায়ে ঢলে পড়া অযথা তলোয়ার

ছুটে যাওয়া মাত্র আর যেদিকেই ছোটাও,

তীরবেগ তীব্র স্বয়ং …

 

স্থান কাল লৌহ বর্মে হ্রেষা লেখা নেই

উত্তরণে তাকে লৌকিক করেছো মাত্র

এরপর যাকে কখনো তোমরা ঘোড়া বলে ডাকোনি 

 

বাদল যেন এক পর্দা-কাহিনী ,

সম্মুখ পরিধানে তাকে সফেদ দিয়ে ঢেকেছো

এই ভরা আশ্বিনে যখন কৃষকেরা ফসলে আগুন দিয়েছে

ঐ ছুটে গেলো ৭৬১ , তার পিছনে আমাদের মুখ

আমাদের মুখের পিছনে আমাদের শূন্যতা

শব্দদূষণ বলে হে জননী যে অপবাদ দিয়ে গেলে 

আমার সাধ্য নেই তার পাটিগণিত কষি ।

 

বাদল-২

 

এমনিতেই দুর্গপ্রধান, তার উপর লাল ল্যাটেরাইট

তুমি বললে এই প্রাগ-ঐতিহাসিক, আর ঝরে পড়া স্বর্ণবালাম

হেঁটে আসা ক্রোশ নিয়ে লিখে ফেলেছো বলে মাইল বন্দনা

তুমি ফিরসে বললে, বারংবার বললে

এই ভিতর কোন অভিব্যক্তি নেই

 

হে, রাজন , এই রাজ্যময় যখন আলোক ফুটেছে

দূরত্ব দিয়ে কখনোই কি তার পরিমাপ সম্ভব

দূর থেকে যতটুকু পরিমাপ করা যায় তার মাত্রা পড়ে থাকে ততোধিক দূরে

ক্ষুধায় হাহাকার আর প্রাণ যায়, প্রাণ যায়

কুরুক্ষেত্রে যুদ্ধপরবর্তী যে পরিত্যক্ত তৃণ পড়ে আছে

তুমি বরং তার একবার মূল্যায়ন করো, আর আমাকে জানাও

এই ঝাঁটিবাবলার ঝাড় আর কতটুকুই বা আমার জঠরযোগ্য হয়েছে ?

 

বাদল-৩

 

কালখণ্ড পার করে জীবন্ত সেই সমস্ত হেঁটে আসা

হে অশ্বারোহী, তুমি তাকে আটকে রেখেছো আস্তাবলে  

আর যখন ইন্দ্রপ্রস্থে আগুন লেগেছে,

বাদলের বেড়া ভেঙ্গে বের হয়ে আসা আবশ্যিক ছিলো

আমরা বলছিলাম আগুনে পুড়তে পুড়তে তাঁর কোমর বেঁকে যাবার কথা

তাঁর একই ভাবে স্থির অথচ জীবন্ত শরীর

প্রাণপণ চিৎকারে ডেকে ওঠা হ্রেষা

 

তাঁর ছুটে যাওয়া রেখা বরাবর শ্বেসময়চিহ্ন

এইটুকুই তাঁর অহংকার জানি

বদলে যাওয়া গম্বুজের আর্ক, পটচিত্রে ভেঙে যাওয়া দূর্গ 

হে রাজন, যখন তছনছ করে উড়িয়ে দিয়েছো পদ্মাবতীর ওড়না;

আর্যাবর্তে যখন বারবার আগুন লেগেছে বাদল রয়ে অক্ষরের মতো,

তার মসৃণ গায়ে পিছলে গেছে সময় রেখা  

এই ধ্রুবচিত্র তার আবশ্যিক ছিলো , একইভাবে অবিচল নিজস্ব আন্দাজ

তুমি যদিও তাকে ইতিহাস বলো না আজ